শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন

তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। তার সরকারই নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এ নির্বাচন হবে কমিশনের অধীনে। বিএনপির পদযাত্রা এবং বসার যাত্রা যাই করুক না কেন, কোনো লাভ হবে না।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোরেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোইকা। ৭০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ স্টাডিতেই চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহার উপযোগিতা, মেট্রোরেলের রুটসহ নানা বিষয় ওঠে আসবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভবত বিএনপির দম ফুড়িয়ে গেছে, এজন্য হাঁটা শুরু করেছে। তারা তো আগে মিছিল করতো, এখন মিছিলের পরিবর্তে হাঁটা শুরু করেছে। বিএনপি যে পদযাত্রা শুরু করেছে সম্ভবত তারা কারও কাছ থেকে নকল করছে। আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন কারও কাছ থেকে নকল করছে কী না? বিএনপি পদযাত্রা করুক আর যেই যাত্রায় করুক না কেন, তাদের এ যাত্রায় জনগণতো দূরের কথা সাধারণ কর্মীরাও সামিল হয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আবার জনগণের কাছে যেতে হলে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যে অপরাজনীতি করেছে, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে সেগুলোর জন্য মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই দেশে বিএনপি দাবি তুলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এই দেশে আর কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ সকল সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই নির্বাচন হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের সব দেশে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারাই নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করে। আমাদের দেশেও তাই করবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দল বা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, মানুষের সমর্থনের ওপর বিশ্বাস করে, তারা যদি নির্বাচন বর্জন করেন তাহলে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। বিএনপি বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছে কী না আমি জানি না। যদি তারা নির্বাচন বর্জন করে তাহলে মানুষ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে যাবে। তবে আমি আশা করি তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আমরা চাই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আগামী দিনের সরকার পছন্দ করুক সেটিই আমরা চাই।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি আনন্দের দিন। কারণ মেট্রোরেলের কথা চট্টগ্রামের মানুষও অনেকে ভাবেননি। বেশ কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে বহুবার নিবেদন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজকে কোরিয়ান সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে মন্দা চলছে। সঙ্কটময় বিশ্ব পরিস্থিতিতে অনেক প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে সরকার। বিশ্বের অনেক প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতি হয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী এই চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কী পরিমাণ গুরুত্ব দেন, সেটি একটি প্রজেক্টের কথা আলোচনা করলেই বুঝতে পারবেন। তিনি তিনটি প্রজেক্ট মিলিয়ে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার একটা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দিয়েছেন। সেই কাজগুলো চলছে। তিনটা প্রজেক্টের কাজের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই প্রজেক্টগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয় আমি আশা করি আগামী বছর থেকে চট্টগ্রাম শহরে পানি উঠবে না।

তিনি বলেন, অনেকগুলো পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড় কাটার কারণে নান্দনিকতা নষ্ট হয়েছে এবং পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরকে আরো নান্দনিক করার ক্ষেত্রে মেট্রোরেল প্রজেক্টটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এই শহরের লোক সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আগামী দশ বছর পরে এই শহরের লোকসংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এই শহর ঘনবসতিপূর্ণ শহর। সুতরাং এখানে মেট্রোরেলের কোনো বিকল্প নেই।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ঝাং কিউন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, ইআরডি সচিব শরিফা খান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ ও ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সাবিহা পারভীন।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ