খুঁজুন
, ,

শিশু নিরাপত্তায় মেটার ১৮০০ কোটি ডলার পরিশোধের ঐতিহাসিক চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Saturday, 29 August, 2026, 3:20 pm
শিশু নিরাপত্তায় মেটার ১৮০০ কোটি ডলার পরিশোধের ঐতিহাসিক চুক্তি

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আনা অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের ক্ষতি করেছে। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এই চুক্তি অনুযায়ী, মেটাকে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক ব্যবহারের সীমা এবং রাতে ব্লক করার মতো কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করতে হবে।

একটি বিবৃতিতে মেটা বলেছে, তারা ১৮ বিলিয়ন (১৮০০ কোটি) ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে, তবে এর ৩০ শতাংশ টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই অর্থ ১০ বছর ধরে বার্ষিক কিস্তিতে বিতরণ করা হবে বলেও তারা জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই অর্থ ‘অনলাইন পরিবেশে তরুণদের নিরাপত্তা উদ্যোগসহ অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে অর্থায়নের’ জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলো ১০ বছরে মোট তহবিলের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পাবে। বাকি ৩০ শতাংশ কেবল দুটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়ার পর ছাড়া হবে বলে মেটা জানিয়েছে।

শর্তগুলো হলো–

• মেটার মালিকানাধীন নয় এমন ইউটিউব ও টিকটক দৈনিক এক ঘণ্টার ব্যবহারসীমা, নাইট মোড এবং বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা।

• ইউটিউব ও টিকটক প্রত্যেকে ওই ৩০ শতাংশ অংশের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করবে। ওই অর্থের অর্ধেক ইউটিউবের এবং অন্য অর্ধেক টিকটকের পরিশোধের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে।

মেটা আরও বলছে, এই চুক্তি সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যয় হিসেবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তারা আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার (৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয় হিসেবে হিসাবভুক্ত করবে বলে আশা করছে।

মেটার এই সমঝোতার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে শুরু হওয়া একটি বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটল। বিচারটি মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি আগে শুরু হয়েছিল এবং এটি ছয় সপ্তাহ ধরে চলার কথা ছিল।

মেটার এই সমঝোতার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে শুরু হওয়া একটি বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটল। বিচারটি মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি আগে শুরু হয়েছিল এবং এটি ছয় সপ্তাহ ধরে চলার কথা ছিল।

এই বিচার কার্যক্রমের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা এক মামলার মাধ্যমে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইন বহুবার লঙ্ঘন করেছে মেটা।

এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ। এই আইনটি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে তা শিশু ও কিশোরদের জন্য আসক্তিকর হয়ে ওঠে। অ্যাপগুলোর বিভিন্ন সুবিধা, যেমন ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজ, ব্যবহারকারীদের যত দীর্ঘ সময় সম্ভব প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার কমিয়ে আনা মেটা কঠিন করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠানোর মতো সুবিধা, যার উদ্দেশ্য তরুণদের আবার অ্যাপগুলোতে ফিরিয়ে আনা।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মেটা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে।

এছাড়া, মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অনুপযুক্তভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হয়েছে। মেটা ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, যা এই মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্যতম, জানিয়েছে যে মেটার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির আওতায় নিম্নলিখিত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন দুই ঘণ্টার একটি ডিফল্ট ব্যবহারসীমা থাকবে, যা শুধু অভিভাবক তুলে দিতে পারবেন।

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিফল্টভাবে ব্যবহার বন্ধ থাকবে, যা শুধু অভিভাবক প্রত্যাহার করতে পারবেন।

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে নোটিফিকেশন ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে।

• সম্ভাব্য ক্ষতিকর কনটেন্ট সম্পর্কে কিশোরদের অভিযোগ জানানোর জন্য আরও উন্নত ব্যবস্থা থাকবে এবং মেটাকে এসব অভিযোগের ৯০ শতাংশের জবাব ছয় ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে।

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে লাইক বা প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হবে।

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ইমেজ ফিল্টার (চেহারা পাল্টে ফেলা সংক্রান্ত) নিষিদ্ধ করা হবে।

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিকরণবিহীন (নন-পার্সোনালাইজড) ফিড ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

• অভিভাবকদের তদারকি-সংক্রান্ত টুল আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে যে মেটা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে—

• ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার জন্য শক্তিশালী বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

• তথ্য ও অন্যান্য সম্পদে বিস্তৃত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন একটি স্বাধীন নিরীক্ষক নিয়োগ করা।

• নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য নিয়ে “আরও কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক বক্তব্য” দেওয়া থেকে বিরত রাখতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা।

মেটার অবস্থান হলো, বেশিরভাগ পরিবর্তন ১০ বছর ধরে কার্যকর থাকবে, কিন্তু শিশুদের জন্য দৈনিক সময়সীমার মতো কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন মাত্র পাঁচ বছর স্থায়ী হবে, যদি না এই সামাজিক মাধ্যম ‘শিল্পের অন্যান্যরা’ একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।

তবে পরিবর্তনগুলো কখন বাস্তবায়িত হবে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইট টিকটক ও ইউটিউব কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা আমরা এখনো জানি না।

মেটার বিরুদ্ধে মামলা করা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের প্রধান আইন কর্মকর্তারা সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শয়াল্ব এটিকে ‘তরুণদের জন্য জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেটা মুনাফার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ব্যবহার করেছে এবং পরে সে বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে যে তাদের পণ্য নিরাপদ, অথচ তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছে যে এসব প্ল্যাটফর্ম আসক্তি সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিকর।’

‘মেটাকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো চালু করতে বাধ্য করা হয়েছে, সেগুলো ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারে তরুণদের অভিজ্ঞতাকে মৌলিকভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করে দেবে,’ বলেন তিনি।

মেটাই ‘প্রথম প্ল্যাটফর্ম যা আলোচনায় এসেছে’ এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে বলেও জানান এই অ্যাটর্নি জেনারেল।

এদিকে, মেটা তাদের বিবৃতিতে এই সমঝোতাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, তারা একটি নতুন ‘শিল্পখাতের মানদণ্ড’ স্থাপন করতে চায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা মেটার জন্য একেবারেই অপরিহার্য। আমরা চাই অভিভাবক ও কিশোরদের জন্য বিষয়টি সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে।’

প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি টিকটক ও ইউটিউবের কথাও উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, ওই প্ল্যাটফর্মগুলোরও একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করা উচিত।

মেটা বলেছে, ‘আমরা জানি, যখন একটি অ্যাপে কিশোরদের ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তখন তারা সহজেই অন্য একটি অ্যাপে চলে যায়।’

মেটা আরও বলেছে, এই চুক্তি ‘অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সহায়তায় আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এই মাসের শুরুতে মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক।

এই সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে ‘জনদুর্ভোগের’ বিষয় হিসেবে অভিহিত করে বায়ুদূষণের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড। এছাড়া, জরিমানার এই অর্থ, ভবিষ্যৎ ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি একটি তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার অতিরিক্ত হিসেবে এই রায় আসে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে।

নিউ মেক্সিকোর রায় ছাড়াও, চলতি বছরের শুরুর দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে একই ধরনের একটি মামলায় হেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে মেটা।

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ