টিকটকের জন্য শিশুকে কাঁদালেন শিক্ষক, রায়পুরে তীব্র ক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দারগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিকটক ভিডিও তৈরির জন্য এক শিশুশিক্ষার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাঁদিয়ে অমানবিক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রায়পুরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ডিসেন্ট-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি “পিচ্ছি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে” শিরোনামে টিকটকে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “কি মায়া করে কান্না করে গো।” ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুশিক্ষার্থীর মুখে লাঠি দিয়ে খোঁচা দিয়ে তাকে কাঁদানো হচ্ছে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে।
গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে সংশ্লিষ্ট টিকটক অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়। দ্যা ডিসেন্ট জানায়, একাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে তারা অ্যাকাউন্টটির অবস্থান লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শনাক্ত করে। ওই অ্যাকাউন্টে নিয়মিত হায়দারগঞ্জ দারুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হতো। নির্যাতনের শিকার শিশুর গলায় থাকা পরিচয়পত্রেও একই প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ দ্যা ডিসেন্ট-কে বলেন, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং ভিডিওগুলো দেখেছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সার্কেল এসপি বিষয়টি তদারকি করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

