খুঁজুন
, ,

নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 4:12 pm
নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের শতবর্ষী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির ও শিব-কালী মন্দিরকে ঘিরে অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি, নথিপত্র ছিনতাই, অপহরণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের বিভিন্ন আয় উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের জমি ও পুকুর ইজারা, পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলার দোকানিদের দেওয়া প্রণামী, বিভিন্ন দান ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মেলা থেকে আরও ৫২ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার ও সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিককে অভিযোগের মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নয়ন চন্দ্র সরকার, নয়ন চন্দ্র সন্যাসী, মিলন চন্দ্র প্রামানিক, শিরিন চন্দ্র প্রামানিক, সুজিত চন্দ্র প্রামানিক, রতন চন্দ্র প্রামানিক, হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (হিরো), পলাশ চন্দ্র পাল, সুব্রত কুমার প্রামানিক, অমেল চন্দ্র প্রামানিক, উজ্জল চন্দ্র প্রামানিক ও সুজিত চন্দ্র পালসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পারইল গ্রামের শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দির এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা কয়েক একর দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর এসব মন্দির প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতে মন্দিরের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি বিক্রি, বন্ধক ও জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। চন্ডিমাতা মন্দিরের প্রায় ৮ দশমিক ৪৫ একর সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। একইভাবে শিব ও কালী মন্দিরের নামে থাকা ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তিও ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো ভোগদখল করেছেন এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থেরও কোনো জবাবদিহি করেননি।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০০৫ সালে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন কমিটি গঠিত হলেও পূর্ববর্তী কমিটিগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি।

সুভাষ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা কমিটির নেতারা কখনোই পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেননি। হিসাব চাইতে গেলে সভায় উপস্থিত না হওয়া, নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বে এ বিষয়ে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পর কিছু সম্পত্তি উদ্ধার হলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। মন্দিরের সম্পত্তি ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুভাষ চন্দ্র সরকার দাবি করেন, ২০২৪ সালে মন্দিরের দেবোত্তর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বাধা দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সুভাষ চন্দ্র সরকার বাদিয়ে মামলা করেন। আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গঠিত একটি নতুন কমিটিকে তিনি ‘অবৈধ কমিটি’ দাবি করে সেই কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, ৫ বছর মেয়াদী ২০২৪ সালের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবৈধ ভাবে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে বর্তমান কমিটির এক সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ সূত্র বলছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে সুব্রত প্রামানিকের মাছের হ্যাচারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই একই দিন দিবাগত রাতে সুভাষ চন্দ্র সরকারের বাড়িতেও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে দুষ্কৃতিকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মারপিট করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের হিসাব নিরীক্ষা, দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, পারইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মন্দির পরিচালনায় যথাক্রমে সুভাষ চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার তরফদার এর কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় অবৈধ ভাবে যথাক্রমে সভাপতি সুবাশ পাল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন কুমার সন্যাসী যোগসাজসে একটি কমিটি গঠন করে। এর পর সুভাষ চন্দ্র সরকার মোকাম নওগাঁর রাণীনগর সিভিল জজ আদালতে সভাপতি সুবাশ পালের কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান আছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিক বলেন, প্রতি বছরই হিসাব দেয়া হয়েছে। মন্দিরের জমি বিক্রির সাথে তিনি জড়িত নন। অনেক আগের কমিটির সদস্যরা দেবোত্তর জমি বিক্রি করেছে।

এদিকে সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্র প্রামানিককে আটক রেখে ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এবিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ নেই। অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখার পর সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ