খুঁজুন
, ,

নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 4:12 pm
নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের শতবর্ষী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির ও শিব-কালী মন্দিরকে ঘিরে অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি, নথিপত্র ছিনতাই, অপহরণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের বিভিন্ন আয় উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের জমি ও পুকুর ইজারা, পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলার দোকানিদের দেওয়া প্রণামী, বিভিন্ন দান ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মেলা থেকে আরও ৫২ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার ও সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিককে অভিযোগের মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নয়ন চন্দ্র সরকার, নয়ন চন্দ্র সন্যাসী, মিলন চন্দ্র প্রামানিক, শিরিন চন্দ্র প্রামানিক, সুজিত চন্দ্র প্রামানিক, রতন চন্দ্র প্রামানিক, হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (হিরো), পলাশ চন্দ্র পাল, সুব্রত কুমার প্রামানিক, অমেল চন্দ্র প্রামানিক, উজ্জল চন্দ্র প্রামানিক ও সুজিত চন্দ্র পালসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পারইল গ্রামের শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দির এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা কয়েক একর দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর এসব মন্দির প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতে মন্দিরের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি বিক্রি, বন্ধক ও জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। চন্ডিমাতা মন্দিরের প্রায় ৮ দশমিক ৪৫ একর সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। একইভাবে শিব ও কালী মন্দিরের নামে থাকা ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তিও ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো ভোগদখল করেছেন এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থেরও কোনো জবাবদিহি করেননি।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০০৫ সালে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন কমিটি গঠিত হলেও পূর্ববর্তী কমিটিগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি।

সুভাষ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা কমিটির নেতারা কখনোই পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেননি। হিসাব চাইতে গেলে সভায় উপস্থিত না হওয়া, নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বে এ বিষয়ে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পর কিছু সম্পত্তি উদ্ধার হলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। মন্দিরের সম্পত্তি ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুভাষ চন্দ্র সরকার দাবি করেন, ২০২৪ সালে মন্দিরের দেবোত্তর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বাধা দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সুভাষ চন্দ্র সরকার বাদিয়ে মামলা করেন। আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গঠিত একটি নতুন কমিটিকে তিনি ‘অবৈধ কমিটি’ দাবি করে সেই কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, ৫ বছর মেয়াদী ২০২৪ সালের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবৈধ ভাবে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে বর্তমান কমিটির এক সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ সূত্র বলছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে সুব্রত প্রামানিকের মাছের হ্যাচারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই একই দিন দিবাগত রাতে সুভাষ চন্দ্র সরকারের বাড়িতেও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে দুষ্কৃতিকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মারপিট করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের হিসাব নিরীক্ষা, দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, পারইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মন্দির পরিচালনায় যথাক্রমে সুভাষ চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার তরফদার এর কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় অবৈধ ভাবে যথাক্রমে সভাপতি সুবাশ পাল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন কুমার সন্যাসী যোগসাজসে একটি কমিটি গঠন করে। এর পর সুভাষ চন্দ্র সরকার মোকাম নওগাঁর রাণীনগর সিভিল জজ আদালতে সভাপতি সুবাশ পালের কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান আছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিক বলেন, প্রতি বছরই হিসাব দেয়া হয়েছে। মন্দিরের জমি বিক্রির সাথে তিনি জড়িত নন। অনেক আগের কমিটির সদস্যরা দেবোত্তর জমি বিক্রি করেছে।

এদিকে সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্র প্রামানিককে আটক রেখে ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এবিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ নেই। অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখার পর সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ