খুঁজুন
, ,

অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 9:53 pm
অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চারটি ফ্লোরে লিফট ছাড়াই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার লাখো মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ৫০ শয্যার নতুন ভবন এবং ২০০৫ সালে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার চাহিদাও বাড়তে থাকে। সেই প্রয়োজন থেকেই ২০১৭ সালে শুরু হয় ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প।

প্রথমে সাততলা ভবন হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে সেটিকে নয়তলা ভবনে উন্নীত করা হয়। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারিসহ নানা কারণে প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়ে যায়। অবশেষে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির মূল অবকাঠামোগত কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়।

তবে ভবন প্রস্তুত হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, লিফট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।

এদিকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হাসপাতালটি এপ্রিল মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফার্নিচার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ৩০ জুনের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্যে লিফট ছাড়াই হাসপাতালের নিচের চারটি তলা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছরের অক্টোবর নাগাদ ইতালি থেকে লিফট এসে পৌঁছালে পুরোদমে হাসপাতালটি চালু করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

রোগী, তাদের স্বজন এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা, বরিশাল কিংবা ঢাকায় ছুটতে হয়েছে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ সেবা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সুবিধা জেলার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

কাউখালীর বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। জেলা সদরের হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। পিরোজপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু হলে চিকিৎসক, বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা কিডনি রোগী হাজেরা বিবি (৮০) বলেন, ‘মুই হাসপাতালে ভর্তি হইছিলাম চিকিৎসা নিতে। বেড না পাইয়া নিরুপায় হয়ে নিচে বিছানা পাইততা শুইয়া আছি। কেউ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। ডাক্তার একবার আইসা বলছে এখানে এই রোগের চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে যেতে বলছে।’

হার্টের রোগী রশিদ মোল্লা (৭০) বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। গরিব মানুষ, রিকশা চালাইয়া কোনোভাবে চলি। হাসপাতালে এসে ভর্তি হইছি, কিন্তু এখানে হার্টের কোনো চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। আড়াইশ শয্যা চালু হলে বড় বড় ডাক্তার আসবে এবং সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে।’

পিরোজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসমা খাতুন (২৫) বলেন, ‘আমার ছেলে আনাস আব্দুল্লাহ (৩) কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি কিন্তু বেড পাইনি। শিশুকে নিয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি ডাক্তার ও নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেু। এছাড়া এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপা গাইন বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকে। প্রায়ই ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর বিপরীতে সকাল শিফটে চারজন এবং বিকেল ও রাতের শিফটে দুজন করে নার্স কাজ করেন।’

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. হাসান মশিউর রহমান বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে গড়ে ৬০ জন রোগীর বিপরীতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জন নার্স ও একজন চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘পিরোজপুর ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে গড়ে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে নানা ধরনের সমস্যা হয়। পাশাপাশি নার্স, চিকিৎসক, আয়াসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নতুন ভবন চালু হলে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম প্রায় ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সক্ষম হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ ও কিছু আসবাবপত্রের কাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করি ৩০ জুনের মধ্যে আসবাবপত্র চলে আসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হবে। এছাড়া লিফট আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসে পৌঁছাবে।’

পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিভিল সার্জনের চাহিদা অনুযায়ী চারতলা পর্যন্ত ভবন বুঝিয়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং আসবাবপত্র ঢাকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই চারতলা পর্যন্ত অংশ সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লিফটের ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ চলছে। আশা করি অক্টোবরের মধ্যে লিফট দেশে পৌঁছাবে এবং স্থাপন করা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। লিফটের জন্য অপেক্ষা না করে প্রাথমিকভাবে তিনটি ফ্লোরে স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে চাই। লিফট আগস্ট বা পরবর্তী সময়ে এসে পৌঁছাতে পারে। তবে লিফটের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা শুরু করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরবাসীর দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/লাভলু

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ