খুঁজুন
, ,

অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 9:53 pm
অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চারটি ফ্লোরে লিফট ছাড়াই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার লাখো মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ৫০ শয্যার নতুন ভবন এবং ২০০৫ সালে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার চাহিদাও বাড়তে থাকে। সেই প্রয়োজন থেকেই ২০১৭ সালে শুরু হয় ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প।

প্রথমে সাততলা ভবন হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে সেটিকে নয়তলা ভবনে উন্নীত করা হয়। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারিসহ নানা কারণে প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়ে যায়। অবশেষে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির মূল অবকাঠামোগত কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়।

তবে ভবন প্রস্তুত হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, লিফট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।

এদিকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হাসপাতালটি এপ্রিল মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফার্নিচার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ৩০ জুনের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্যে লিফট ছাড়াই হাসপাতালের নিচের চারটি তলা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছরের অক্টোবর নাগাদ ইতালি থেকে লিফট এসে পৌঁছালে পুরোদমে হাসপাতালটি চালু করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

রোগী, তাদের স্বজন এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা, বরিশাল কিংবা ঢাকায় ছুটতে হয়েছে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ সেবা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সুবিধা জেলার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

কাউখালীর বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। জেলা সদরের হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। পিরোজপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু হলে চিকিৎসক, বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা কিডনি রোগী হাজেরা বিবি (৮০) বলেন, ‘মুই হাসপাতালে ভর্তি হইছিলাম চিকিৎসা নিতে। বেড না পাইয়া নিরুপায় হয়ে নিচে বিছানা পাইততা শুইয়া আছি। কেউ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। ডাক্তার একবার আইসা বলছে এখানে এই রোগের চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে যেতে বলছে।’

হার্টের রোগী রশিদ মোল্লা (৭০) বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। গরিব মানুষ, রিকশা চালাইয়া কোনোভাবে চলি। হাসপাতালে এসে ভর্তি হইছি, কিন্তু এখানে হার্টের কোনো চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। আড়াইশ শয্যা চালু হলে বড় বড় ডাক্তার আসবে এবং সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে।’

পিরোজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসমা খাতুন (২৫) বলেন, ‘আমার ছেলে আনাস আব্দুল্লাহ (৩) কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি কিন্তু বেড পাইনি। শিশুকে নিয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি ডাক্তার ও নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেু। এছাড়া এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপা গাইন বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকে। প্রায়ই ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর বিপরীতে সকাল শিফটে চারজন এবং বিকেল ও রাতের শিফটে দুজন করে নার্স কাজ করেন।’

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. হাসান মশিউর রহমান বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে গড়ে ৬০ জন রোগীর বিপরীতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জন নার্স ও একজন চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘পিরোজপুর ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে গড়ে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে নানা ধরনের সমস্যা হয়। পাশাপাশি নার্স, চিকিৎসক, আয়াসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নতুন ভবন চালু হলে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম প্রায় ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সক্ষম হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ ও কিছু আসবাবপত্রের কাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করি ৩০ জুনের মধ্যে আসবাবপত্র চলে আসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হবে। এছাড়া লিফট আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসে পৌঁছাবে।’

পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিভিল সার্জনের চাহিদা অনুযায়ী চারতলা পর্যন্ত ভবন বুঝিয়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং আসবাবপত্র ঢাকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই চারতলা পর্যন্ত অংশ সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লিফটের ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ চলছে। আশা করি অক্টোবরের মধ্যে লিফট দেশে পৌঁছাবে এবং স্থাপন করা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। লিফটের জন্য অপেক্ষা না করে প্রাথমিকভাবে তিনটি ফ্লোরে স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে চাই। লিফট আগস্ট বা পরবর্তী সময়ে এসে পৌঁছাতে পারে। তবে লিফটের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা শুরু করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরবাসীর দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/লাভলু

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ