খুঁজুন
, ,

বাসদ নেতা কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের মৃত্যুতে সর্বস্তরের শোক ও শ্রদ্ধা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Thursday, 18 June, 2026, 11:04 pm
বাসদ নেতা কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের মৃত্যুতে সর্বস্তরের শোক ও শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ এর মৃত্যুতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি, বাসদ হবিগঞ্জ জেলা, চুনারুঘাট উপজেলা, সিলেট জেলা ও মৌলভীবাজার জেলার নেতৃবৃন্দ।

কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ গত ১৬ জুন মঙ্গলবার রাত ২ টায় ঢাকা পিজি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেগুন বাগিচায় ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিস প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে রাত ৪ টায় তাঁর মৃতদেহ দলীয় লাল পতাকায় আচ্ছাদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাঁর বিপ্লবী জীবনের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাল সালাম প্রদর্শন করে শেষ বিদায় জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক আহ্বায়ক কমরেড খালেকুজ্জামান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস, জুলফিকার আলী, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, আব্দুল কুদ্দুস, জনার্দন দত্ত নান্টু, ডাক্তার মনিষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।

১৭ জুন বুধবার বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং তাঁর বিপ্লবী জীবনের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাল সালাম প্রদর্শন করে শেষ বিদায় জানিয়েছেন বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড নুরুজ্জামান তরফদার, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর, গোলাম কিবরিয়া, বাসদ মৌলভীবাজার জেলার সংগঠক উজ্জ্বল রায়, বিশ্বজিৎ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য ফয়সল আহমেদ, অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ, মোশারফ হোসেন খান শান্ত, আব্দুল মতিন, চৌধুরী ফয়সল আহমেদ সুয়েব, সুনীল রায়, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জিলু মিয়া, প্রকৌশলী সজল রায় চৌধুরী, লুকমান আহমেদ তালুকদার, এ আর সি কাউছার, বাসদ চুনারুঘাট উপজেলার নেতা সাবেক মেম্বার আশ্বব আলী, ওবায়দুল হক চৌধুরী সেলিম, আনোয়ার মিয়া, পারভেজ মিয়া, জসীম উদ্দিন, গাবরু মিয়া, আব্দুল ছত্তার, সিপিবি নেতা আব্দুর রশিদ, আরিফুর রহমান জিতু, আব্দুল সামাদ, আব্দুল ছত্তার, তাহের মিয়া।

উপস্থিত হয়ে আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চুনারুঘাটের ১ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান, হুমায়ূন খান এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রয়াত কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের শত শত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনবৃন্দ।

শোক বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁর সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পীযুষ চক্রবর্তী, বাসদ চুনারুঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার।

এছাড়া গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাসদ নেতা আহমেদ আলী, আলেয়া বেগম, লন্ডন প্রবাসী ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ, প্রবাসী বাসদ নেতা মামুনুর রশিদ সুয়েল, আক্তার হোসেন অলক, মাহমুদ আহমেদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুবায়ের আহমেদ, মোস্তফা জামান বাবুল, হুমায়ূন খান প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ দলের প্রয়োজনে চুনারুঘাট-মাধবপুর (হবিগঞ্জ-৪) সংসদীয় আসন থেকে ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। স্কুল জীবন থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তথা বাসদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন। তার ধারাবাহিকতায় চুনারুঘাট ও হবিগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য এবং চুনারুঘাট উপজেলা শাখার সদস্য সচিব এর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি চুনারুঘাট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষক শ্রমিক জনতার ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। চা শ্রমিকদের সংগঠিত করে দাবি আদায়ের আন্দোলন করেছেন।

বিশেষ করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুর অঞ্চলের স্থানীয় সমস্যা সংকট নিরসনে সোচ্চার ছিলেন। তিনি যে কোনো অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীক, সাহসী, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং দেশের তেল-গ্যাস, কয়লা, বন্দর, করিডোর রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।

মূলত তিনি পুঁজিবাদী শোষণ ব্যবস্থা ভেঙে কৃষক শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষায় জীবনব্যাপী আন্দোলন করেছেন। তাঁর প্রয়াণে দল একজন নিবেদিত সৈনিক, দৃঢ়চিত্তের লড়াকু নেতা হারাল, এলাকাবাসী হারিয়েছেন একজন অন্যায়ের প্রতিবাদী সাহসী সূর্য সন্তান, পরিবার হারিয়েছে সকল ঝড়ঝাপটা মোকাবেলার শক্ত খুঁটি।

কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের বিপ্লবী জীবনের স্মৃতি, কর্ম ও আদর্শিক চেতনা আগামী দিনে কৃষক শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শোষণ বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/নাফিজ

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ