খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অভিযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Wednesday, 17 June, 2026, 9:54 pm
মিরসরাইয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অভিযোগ

চট্টগ্রামের মিরসরাই বামন সুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনিয়ম গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা।

অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা, বিদ্যালয় থেকে বেতন উত্তোলন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ । বিদ্যালয় এর খরচ উত্তোলন করে পাওনাদারদের পরিশোধ না করা। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন দাপ্তরিক খরচ পরিশোধ না করা। বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ। জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অফিস সহকারীর নামে ঋণ উত্তোলন ।

এবং সেই ঋণ খেলাপির দায়ে অফিস সহকারীর কারাবরণ । এসএসসি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন এর টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ফ্যান ও আসবাবপত্র বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ । বিদ্যালয়ের ১৪ টি ইলেকট্রিক ফ্যান ও পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা। এছাড়া ডিজিটাল ল্যাবের জন্য সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ল্যাপটপ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সারজমিনে গিয়ে নাজমুল আলমকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা খানম জানান প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম দ্বাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম । কিন্তু মিরসরাই উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম কে ফোন করে নাজমুল আলমের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেরদৌস আলম জানান গত এক মাসের মধ্যেও নাজমুল আলম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোন দাপ্তরিক কাজে উপস্থিত হননি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরা রেজিস্টার খুলে দেখা যায় নাজমুল আলম স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন গত, ১৫ দিন ধরে।

এর আগের মাসগুলোতেও তিনি ছিলেন অনিয়মিত। প্রতিমাসে নিয়েছেন বহু বিভিন্ন খাতে ছুটি। কিন্তু কোন ছুটিরই বিদ্যালয়ে কোন নথি নেই । এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা খাতুন বলেন এটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিষয়। আমরা সহকারী শিক্ষক হয়ে এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইতে পারি না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেশকাত হোসেন চৌধুরী জানান, ২০১১ সালে নাজমুল আলম উক্ত স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিদ্যালয় তেমন একটা সময় দেন না। বিদ্যালয় অনুপস্থিত থেকেও পরবর্তীতে এসে উপস্থিতির স্বাক্ষর করেন। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডের কারণে পুরো স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

সহকারী শিক্ষক মৃদুল কান্তি মুহুরী জানান, প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপ ব্যবহার দেখিয়ে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি এনজিও থেকে তার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন নাজমুল আলম। সেই ঋন পরিশোধ না করায় মৃদুল কান্তি মুহুরীর নামে ওয়ারেন্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু টাকা দিয়ে ওয়ারেন্ট তামিল করা হলেও এখনো বেশিরভাগ টাকা বকেয়া রয়েছে।

শিক্ষক আনোয়ার আশরাফ জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে আছে। বিদ্যালয় এর বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কর্মকান্ড করানো সম্ভব হচ্ছে না । অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি জানান বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে তিনি প্রচুর টাকা ঋন করেছেন। ভুক্তভোগীরা তাকে খোঁজার জন্য স্কুলে আসছেন এবং তাকে অনেক সময় অপমান অপদস্ত করছেন । ফলে মান সম্মান রক্ষায় তিনি স্কুলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

অফিস সহকারী মাইনুদ্দিন জানান, শিক্ষক মৃদুল কান্তি মুহুরীর পাশাপাশি অফিস সহকারী মাঈনুদ্দিনের নামেও ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঋন পরিশোধ না করায় মাইনুদ্দীনকে জেল খাটতে হয়েছে। নিজের জমি বিক্রি করে সেই ঋনের টাকা শোধ করতে হয়েছে অফিস সহকারী মাইনুদ্দিনকে ।

শিক্ষকরা জানান, বিষয়গুলো সুরাহর জন্য কয়েক বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বারবার অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে হতাশায় ভুগছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ ।

বিষয়গুলো জানার জন্য নাজমুল আলমের ব্যক্তিগত মুঠোপনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মিরসরাই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, এসব সমস্যার সম্পর্কে বিদ্যালয় থেকে কোন প্রকার কোন শিক্ষক অভিযোগ জানায়নি। এখন যে অভিযোগগুলো শোনা যাচ্ছে এগুলোর যথাযথ তদারকি করে বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমন্বয় করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমাইয়া আক্তার বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ গুলোর যথাযথ তদারকি করে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ