খুঁজুন
, ,

জাতিসত্তার সংকট মোচন ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থান: ড. মিজানের দিকদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Friday, 22 May, 2026, 10:57 pm
জাতিসত্তার সংকট মোচন ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থান: ড. মিজানের দিকদর্শন

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে এখন নতুন ভোরের আলো। এই আলো যেমন রাজনৈতিক মুক্তির, তেমনি তা অবরুদ্ধ সংস্কৃতি ও ভূলুণ্ঠিত জাতিসত্তাকে ফিরে পাওয়ারও। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশি কালচারাল সোসাইটি’ আয়োজিত এক মহতী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও সময়োপযোগী আহ্বানটিই অত্যন্ত আবেগঘন ও তাত্ত্বিকভাবে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।

উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী বেগম সেলিনা রহমান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের মতো বরেণ্য সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানটির অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। প্রথম বাংলাদেশী প্রফেসর হিসেবে বিদেশের মাটিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদের গৌরব অর্জন করে তিনি বিশ্বদরবারে আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকে সুউচ্চ ও মহিমান্বিত করেছেন। প্রবাসে থেকেও দেশের মাটির টান এবং এর বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তিই যে তাঁর মূল সাধনা, তা আবারও প্রমাণিত হলো তাঁর এই কালজয়ী বক্তব্যে।

সংস্কৃতির বিকৃতি ও ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনঃ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আসিফ মিজান সময়োপযোগী এই আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এরপরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিগত ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের রূঢ় বাস্তবতার চিত্র। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে—

“বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ওপারের (পার্শ্ববর্তী দেশের) ইশারায় ও পরামর্শে আমাদের রাষ্ট্রের সকল স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকেই শুধু ধ্বংস করেনি, বরং আমাদের হাজার বছরের অনন্য জাতিসত্তাকে চিরতরে মুছে দেওয়ার এক সুগভীর চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। ‘দাদাদের’ প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। যার ফলে, অর্থনীতির মতো আমাদের প্রাণের শিল্প-সংস্কৃতিও সম্পূর্ণ মুখথুবড়ে পড়েছিল।”

ড. মিজান বলেন, এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ছিল মূলত তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পরনির্ভরশীল ও আজ্ঞাবহ জাতিতে পরিণত করার সুকৌশলী নীল নকশা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও আগামীর রাষ্ট্রনায়কের দূরদর্শিতাঃ

বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে ড. আসিফ মিজান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক দর্শন উপস্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার একটি সাম্য ও ইনক্লুসিভ সোসাইটি (অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ) প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট ভাষা উচ্চারণ করে বলেন—

“আমরা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনলেও, এই সরকার হবে সমগ্র বাংলাদেশের সরকার, কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের সরকার নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিক, এমনকি প্রতিটি জীব ও প্রাণীও এই রাষ্ট্রের ছায়াতলে নিরাপদ থাকবে—এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের মূল স্পিরিট ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার।”

এ পর্যায়ে তিনি দেশনায়ক তারেক রহমানের সেই ঐতিহাসিক ‘রাজকীয় প্রত্যাবর্তন’-এর দিনটিকে স্মরণ করে লক্ষ-কোটি জনতার সামনে দেওয়া তাঁর সেই জাদুকরী উক্তিটি পুনর্ব্যক্ত করেন: “I’ve a plan!”

ড. মিজান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তারেক রহমানের সেই পরিকল্পনা যে কেবল ক্ষমতার পটপরিবর্তন নয়, বরং গোটা দেশকে আমূল বদলে দেওয়ার এক মহৎ মহাপরিকল্পনা—তা আমরা ইতোমধ্যেই তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপে দেখতে পাচ্ছি। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে—”Morning shows the day”(সকালই বলে দেয় দিনটি কেমন যাবে)। জনাব তারেক রহমান তাঁর চলনে-বলনে, মননশীলতায় এবং প্রজ্ঞাঘন দূরদর্শিতায় ইতোমধ্যেই আমাদের মনোজগতে ও চিন্তার জগতে এক ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা একটি টেকসই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

জাতীয়তাবাদের সঠিক আখ্যানঃ “আমরা বাংলাদেশি”

প্রফেসর মিজানের বক্তব্যের সবচেয়ে তাত্ত্বিক ও আবেগঘন অংশটি ছিল আমাদের আত্মপরিচয়ের সংকট মোচন নিয়ে। ড. আসিফ মিজান অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকার সুকৌশলে বৈচিত্র্যময় এই ভূখণ্ডের সকল ভাষাভাষী ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর একক ‘বাঙালি’ পরিচয় চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল যা করতে তার মরহুম পিতা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া পরিচয়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমাদের আবারও ফিরে যেতে হবে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত সত্যের আলোয়।

শহীদ জিয়া চমৎকারভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, নানা ধর্ম, বর্ণ এবং বহু ভাষাভাষী মানুষের এই বাংলাদেশে সকলের একটিই অনন্য, বৈষম্যহীন এবং পরম সম্মানের ইউনিক পরিচয় হওয়া উচিত—আর তা হলো “আমরা বাংলাদেশি”। ড. মিজান উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণ প্রজন্মের মন থেকে সাংস্কৃতিক দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে এই সঠিক ও গৌরবান্বিত জাতিসত্তার পরিচয়টি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

সংস্কৃতির নতুন দিগন্তঃ

পরিশেষে, প্রফেসর ড. আসিফ মিজান ‘বাংলাদেশি কালচারাল সোসাইটি’র এই উদ্যোগকে এক অনন্য ও কালজয়ী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে মঞ্চের সামনে উপবিষ্ট বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ও বুদ্ধিজীবীদেরই।

বিদেশে বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই অনন্য মনীষী দেশের সকল সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন এক ঐতিহাসিক ও আবেগময় প্রত্যয়ে—”আপনাদের সকল শুভ ও দেশপ্রেমিক উদ্যোগে আমি সবসময় পাশে আছি; কারণ, দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি।”

দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের এই মেলবন্ধনই হোক আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/এসআর

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ