ছাগল ও যৌতুকের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে নববধূকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় কোরবানির জন্য খাসি ছাগল ও যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক নববধূর মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত গৃহবধূ সুমি আক্তার (২২) কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ চিডুর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুমির স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার বাবার বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও কোরবানির জন্য একটি বড় খাসি ছাগল দাবি করে আসছিল। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সুমির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওই দাবিকে কেন্দ্র করে সুমিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমির মা আমেনা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন করা হতো। ঈদ এলেই টাকা আর খাসির জন্য চাপ দিত। আমরা গরিব মানুষ, তাদের দাবি পূরণ করতে পারিনি। তাই আমার মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছে।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

