খুঁজুন
, ,

কালীগঞ্জে আঙুর চাষে কলেজ ছাত্রের অসাধারণ সাফল্য

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Saturday, 9 May, 2026, 5:21 pm
কালীগঞ্জে আঙুর চাষে কলেজ ছাত্রের অসাধারণ সাফল্য

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে এক কলেজ ছাত্র রাকিব হাছান আঙুর চাষে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। তিনি কোটচাদপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেক মানুষ। উদ্যোক্তা রাকিব হাছান লেখাপড়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালে মে মাসে ১০ কাঠা জমিতে বাইকুনুর ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের চারা রোপণ করেন। প্রায় দুই বছর আগে আঙুর গাছের চারা রোপন করেন ও গাছে আঙুর ধোরেছে প্রচুর পরিমানে।তিনি বলেন আমার কোনো প্রশিক্ষন বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, ইন্টারনেট আর নিজের প্রচেষ্টাই ছিল তার ভরসা।এখন তিনি আঙুর উৎপাদনের পাশাপাশি চারা তৈরি করে বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর তার বাগানের প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। আঙুরের আকৃতি ও রঙ দুটোই আকর্ষণীয় আর স্বাদে বেশ মিষ্টি।

সবুজের এমন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। তার এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।সবুজের বাগান দেখতে আসা মিজানুর রহমান ও সোহাগ আলী বলেন, আঙুর বাগান শুনেই মুলত দেখতে আসা। আঙুর খেয়েও দেখলাম অনেক মিষ্টি, সবুজের উদ্যগকে আমরা অভিনন্দন জানাই।বাগান দেখতে আসা মধুগঞ্জ বাজারের মুশফিকুর রহমান মাহামুদ বলেন, বাজারের আঙুরের চেয়ে এই বাগানের আঙুরের স্বাদ হাজার গুণ ভালো। রাকিব হাছান প্রায় ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে ১২০ টি আঙুরের চারা ক্রয় করেন। পরবর্তিতে ১০ কাঠা জমিতে মাচা তৈরি, সেচ, সার-কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ আরো ৬০ হাজার টাকা ব্যায় করেন। ফলে ১০ শতক জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। চারা রোপণের এক বছরের মাথায় ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দুই লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদে তার এক লাখ টাকা লাভ থাকে।

বাইকুনুর জাতের মিষ্টি আঙুরের চাষ করে সফল হয়েছেন রাকিব হাছান। বাইকুনুর রাশিয়ার উন্নত জাতের একটি উচ্চ ফলনশীল আঙুর। দেশের মাটিতে বিদেশি আঙুরের চারা রোপণের প্রথম বছরের মাথায় তিনি লাভ পেয়েছিলেন এক লাখ টাকা। চলতি বছর সেই বাগান থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার আঙুর ফল বিক্রি করেছেন।রাকিব হাছান ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার গোমরাইল গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালে মে মাসে ১০ কাঠা জমিতে বাইকুনুর ও ব্লাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের চারা রোপণ করেন।এদিকে চলতি বছর সেচ, সার ও পরিচর্যা বাবদ রাকিবের ১৫ হাজার টাকা খরচ ছাড়া অতিরিক্ত খরচ হয়নি। এ বছর তিনি বাগান থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন। বাগানে এখনও অনেক আঙুর ঝুলে আছে। স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত আঙুর প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি আঙুর গাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যাচ্ছে। গাছ যত বড় হবে, ফল তত বেশি হবে। এছাড়া তিনি দুই লাখ টাকার চারা বিক্রির অগ্রিম অর্ডার পেয়েছেন।বাইকুনুর ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুর মিষ্টি ও সুস্বাদু। এ আঙুরে কোনো বিচি থাকে না কিন্তু কিছু কিছু আঙুরের মধ্যে বীজ আছে। সেগুলো ওষুধের মাধ্যমে সিডলেস করা যায়।বাগানের উদ্যোক্তা রাকিব বলেন, আমি প্রথমে কয়েকটি আঙুর গাছের ফল ছিল টক। ফলন ভালো কিন্তু স্বাদ টক দেখে আমার কৌতুহল হয়। পরবর্তীতে আমি এটা নিয়ে বিভিন্ন গবেষনা করি। অনেক জাতের আঙুর গাছের খবর পাই কিন্তু আমার গাছ লাগানোর জায়গা নেই।

কৃষি বিভাগ বা সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে, পাশে থাকে তাহলে আমার স্বপ্ন এই আঙুর আমার পুরো ঝিনাইদহ জেলায় আমি ছড়িয়ে দেব। রাকিব হাছানের মামা কালীগঞ্জ উপজেলার

গোমরাইল গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ভাগ্নে বিভিন্ন গাছের প্রতি অন্যরকম ভালবাসা ছিল। সে প্রধমে আঙুর গাছ ১০ কাঠা জমিতে রোপন করে, গাছে ফলন ভালো আসে কিন্তু এর স্বাদ টক হওয়ায় সে এটা নিয়ে কাজ করে। এখন দেখি সব গাছে ভালো ফল ধোরেছে, পাশাপাশি সে এখন চারা বিক্রি করছে। সরকার যদি তাকে সহযোগিতা করে তাহলে সে আরও এগিয়ে যাবে। সে আঙুরের গাছ রোপন করবে এমন উদ্যেগের কথা শুনে তাকে আমি অনুমতি দিই। গাছ রোপন করার পর তার গাছের প্রতি পরিচর্যা ও ভালবাসা দেখে অবাক হয়েছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রনি বলেন, কয়েক বছর ধরে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার মধ্যে বেশ কিছু চাষি আঙুর চাষ করছেন। আমরা তাদের উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।কিন্তু নিজের জায়গা না থাকলেও থেমে থাকেননি কৃষি উদ্যোক্তাা কলেজ ছাত্র রাকিব হাছান।তার এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের কৃষি বিভাগ তার পাশে থাকবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/সোহাগ আলী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ