খুঁজুন
, ,

এডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন গ্লোবাল ল থিংকারস সোসাইটি (GLTS) এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Tuesday, 28 April, 2026, 3:09 pm
এডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন গ্লোবাল ল থিংকারস সোসাইটি (GLTS) এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

“দ্য রয়্যাল কনক্লেভ: ইউনাইটিং লিডারশিপ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড পিস” শীর্ষক এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল রবিবার আয়োজিত এই এক্সক্লুসিভ, আমন্ত্রিত অতিথি-নির্ভর অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান নেতা, দূরদর্শী চিন্তাবিদ এবং পরিবর্তনকর্মীরা একত্রিত হন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই কনক্লেভ একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি রূপান্তরমূলক বৈশ্বিক উদ্যোগের সূচনা করে।

নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আশরাফ জালাল খান মনন-কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাগত জানানো হয়, যা একটি নতুন নেতৃত্ব অধ্যায়ের সূচনা করে।

এছাড়াও, সংগঠনটি তাদের বৈশ্বিক নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে নিম্নোক্ত নিয়োগের মাধ্যমে—
এমজিআর. বিসি. নিকোলা শিমচোভা — ইউরোপ মহাদেশীয় নেতা বাসু গৌতম — এশিয়া মহাদেশীয় নেতা
ন্যান্ডার কোভেন্টস — বেলজিয়াম কান্ট্রি লিডার
সামি দোহা — মেন্টর জামিলাতুন নাইমা (মিস আর্থ) —গুডউইল লিডার এস. এ. ওয়ালিদ — গুডউইল লিডার
ইব্রাহিম এস. এম. কিশকো — আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মকর্তা আলতুমুশ সাদ — পরিচালক, প্রোগ্রাম, গবেষণা ও ফান্ডরেইজিং এই নিয়োগসমূহ একটি শক্তিশালী, সমন্বিত এবং বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত নেতৃত্ব কাঠামো গঠনের প্রতিফলন।

সৌলি (আমাদের পৃথিবী)- আজ একটি ভালো কাজ, আগামীর সুন্দর পৃথিবী [“Souli – United for Earth and Peace”] উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল “Souli – United for Earth and Peace” উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে একত্রিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।
Souli একটি সম্মিলিত আন্দোলন হিসেবে কাজ করবে, যেখানে পৃথিবী রক্ষা এবং মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা হবে সবার যৌথ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ

অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন গার্ডিয়ান রাওমান স্মিতা, যিনি অতিথিদের স্বাগত জানান এবং সংগঠনের লক্ষ্য, ভিশন ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের মূল অংশসমূহঃ
 প্রধান অতিথি ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড-এর কী-নোট বক্তব্য, যেখানে তিনি নৈতিক নেতৃত্ব, জলবায়ু দায়বদ্ধতা এবং বিশ্ব শান্তির উপর গুরুত্বারোপ করেন
 নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ
 ইনভেস্টিচার ও সম্মাননা প্রদান
 চেয়ারম্যান ও অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের বক্তব্য
 Souli উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
 সমাপনী অধিবেশন, নৈশভোজ ও নেটওয়ার্কিং

নেতৃত্বের বক্তব্য

চেয়ারম্যান আশরাফ জালাল খান মনন বলেন, “এটি শুধু একটি পদ নয়, এটি মানবতার প্রতি একটি দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তি আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ, যে দেশ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখসারিতে রয়েছে, আমরা খুব ভালোভাবেই এই বাস্তবতা অনুভব করি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত অনিশ্চয়তা আমাদের জন্য দূরের কোনো বিষয় নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। এই বাস্তবতা আমাদের শুধু সচেতনই করে না, নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও দেয়। Souli-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তুলছি, যেখানে পৃথিবী রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হবে। বাংলাদেশ কখনোই শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে থাকবে না—আমরা হয়ে উঠব সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং ঐক্যের বৈশ্বিক উদাহরণ। আসুন, আমরা আমাদের চ্যালেঞ্জকে শক্তিতে রূপান্তর করি এবং আমাদের ভিশনকে বৈশ্বিক কর্মে পরিণত করি।”

প্রতিষ্ঠাতা আহসানুল আলম জন বলেন, “এই উদ্যোগটি একটি স্বপ্ন থেকে শুরু হয়েছিল দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্বপ্ন। আজ এটি একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করছে।”

গার্ডিয়ান রাওমান স্মিতা বলেন, “নেতৃত্ব মানে পরিবর্তন। এই কনক্লেভ এবং Souli উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায় গড়ে তুলছি, যা দায়িত্ব, সহমর্মিতা এবং কর্মের উপর ভিত্তি করে দাঁড়াবে।”

প্রধান অতিথি ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, “ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আমরা কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তার উপর নয়, আমরা কী করছি তার উপর। একটি টেকসই বিশ্ব গড়তে জলবায়ু কর্মসূচি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা একসাথে এগিয়ে নিতে হবে।”

বৈশ্বিক আহ্বান

রয়্যাল কনক্লেভ ২০২৬ বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নেতৃত্বের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। Souli উদ্যোগের মাধ্যমে এই আন্দোলন এখন সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।

জাগো সংবাদ/আর বি

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ