খুঁজুন
, ,

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Friday, 20 March, 2026, 10:22 am
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্তে পৃথক পৃথক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদযাপন হয়েছে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। মাদারীপুরে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ কেন্দ্রিক ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে এবং বরগুনা ও পটুয়াখালীতেও হাজারো মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন। নিচের জেলার তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো-

মাদারীপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় দরবার শরীফের ঈদগাহ মাঠে পৃথকভাবে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা জুলহাস উদ্দিন। প্রায় ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় দুলদুলের চাতালে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন। এ বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা মনে করেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসাবেই ঈদ পালন করা উচিত। নামাজ শেষে দোয়া ও কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করা হয়।

নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়া গ্রামে এ জামাত হয়। এতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন।

বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এসব জামাতে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু মুসল্লি ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করেন। পুলিশ জানায়, সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৬টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শ অনুসরণ করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ১০০-২০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক মনে করেন।

নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক জামাতে মুসল্লিরা অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক ধরে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আনন্দপুর গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, তারা চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

ফেনী
ফেনীর সদর ও পরশুরাম উপজেলার তিনটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কিছু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকালে পৃথক জামাতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারের অংশগ্রহণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শহরের একটি বাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। আয়োজকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।

ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। তিনটি পৃথক জামাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকালে রামগঞ্জে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামে ৪০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় স্থানীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

শেরপুর
শেরপুরের ৭টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

পিরোজপুর
পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা বহু বছর ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সীমিত পরিসরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় ২৩ জন মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

বরগুনা
বরগুনার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি বহু বছরের প্রচলিত রীতি। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করা হয়।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। একাধিক জামাতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

জামালপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরিষাবাড়ীর বলারদিয়া মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আজিম উদ্দিন মাস্টার।

জামাতে প্রায় ৩০০ মুসল্লি অংশ নেন, যেখানে নারীদের উপস্থিতিও ছিল। মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর পূর্ব জলীপাড়া গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। মাওলানা আব্দুল বাতেন ২০০ পরিবারকে নিয়ে জামাতে ইমামতি করেন। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। এলাকার পরিবারগুলো কয়েক দশক ধরে সৌদি সময় অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছে।

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ীর তালুক ঘোড়াবান্দায় ৩০-৪০ মুসল্লি, সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নে শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলে আসা মুসল্লিরা মোনাজাতের পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ৪০-৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা মেনে চলছেন।

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ