খুঁজুন
, ,

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Friday, 20 March, 2026, 10:22 am
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্তে পৃথক পৃথক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদযাপন হয়েছে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। মাদারীপুরে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ কেন্দ্রিক ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে এবং বরগুনা ও পটুয়াখালীতেও হাজারো মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন। নিচের জেলার তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো-

মাদারীপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় দরবার শরীফের ঈদগাহ মাঠে পৃথকভাবে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা জুলহাস উদ্দিন। প্রায় ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় দুলদুলের চাতালে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন। এ বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা মনে করেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসাবেই ঈদ পালন করা উচিত। নামাজ শেষে দোয়া ও কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করা হয়।

নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়া গ্রামে এ জামাত হয়। এতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন।

বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এসব জামাতে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু মুসল্লি ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করেন। পুলিশ জানায়, সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৬টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শ অনুসরণ করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ১০০-২০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক মনে করেন।

নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক জামাতে মুসল্লিরা অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক ধরে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আনন্দপুর গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, তারা চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

ফেনী
ফেনীর সদর ও পরশুরাম উপজেলার তিনটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কিছু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকালে পৃথক জামাতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারের অংশগ্রহণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শহরের একটি বাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। আয়োজকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।

ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। তিনটি পৃথক জামাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকালে রামগঞ্জে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামে ৪০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় স্থানীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

শেরপুর
শেরপুরের ৭টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

পিরোজপুর
পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা বহু বছর ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সীমিত পরিসরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় ২৩ জন মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

বরগুনা
বরগুনার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি বহু বছরের প্রচলিত রীতি। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করা হয়।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। একাধিক জামাতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

জামালপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরিষাবাড়ীর বলারদিয়া মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আজিম উদ্দিন মাস্টার।

জামাতে প্রায় ৩০০ মুসল্লি অংশ নেন, যেখানে নারীদের উপস্থিতিও ছিল। মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর পূর্ব জলীপাড়া গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। মাওলানা আব্দুল বাতেন ২০০ পরিবারকে নিয়ে জামাতে ইমামতি করেন। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। এলাকার পরিবারগুলো কয়েক দশক ধরে সৌদি সময় অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছে।

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ীর তালুক ঘোড়াবান্দায় ৩০-৪০ মুসল্লি, সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নে শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলে আসা মুসল্লিরা মোনাজাতের পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ৪০-৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা মেনে চলছেন।

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ