বাজেট ২০২৬–২৭: এলিভেটর খাতকে মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার জোর দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Wednesday, 29 April, 2026 । 8:39 am

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে এলিভেটর (লিফট) খাতকে মূলধনী (ক্যাপিটাল) যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বেলিয়ার প্রতিনিধি এমদাদুর রহমান একই দাবিসহ ৭ দফা প্রস্তাব লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

বেলিয়ার সভাপতি শফিউল আলম উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াদুল হক সাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের দ্রুত নগরায়ন, বহুতল ভবন নির্মাণ ও শিল্পায়নের প্রেক্ষাপটে এলিভেটর এখন বিলাসপণ্য নয়; বরং এটি একটি অপরিহার্য অবকাঠামো উপাদান। তাই লিফট ও এর যন্ত্রাংশকে অত্যাবশ্যকীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির আওতায় আনা জরুরি।

সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে এলিভেটর আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কর কাঠামো ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বেলিয়ার মতে, এলিভেটর একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ, যার ব্যবহারকাল ২৫ থেকে ৩০ বছর। এটি শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, শপিং মলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক।

চিঠিতে সংগঠনটি ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে—

এলিভেটরকে মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, লোড ফ্যাক্টরের হার কমানো, স্থানীয় উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কর বৈষম্য দূর করা, বন্দর পর্যায়ে ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ, তথাকথিত “ব্রিফকেস কোম্পানি”কে করের আওতায় আনা এবং আমদানি কর কাঠামো প্রতি বছর পরিবর্তনের পরিবর্তে পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা করা।

এছাড়া দ্রুত নগরায়নের কারণে দেশে এলিভেটরের চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক টেস্টিং সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, টেস্টিং টাওয়ার স্থাপন এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের ওপর জোর দিয়েছে বেলিয়া।

বেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে খাতটির উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে তারা একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্প সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এলিভেটর খাতকে মূলধনী যন্ত্রপাতির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রসঙ্গত, পণ্য ও সেবার উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং মজুদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবকাঠামোর দিক থেকে এলিভেটর শিল্প একটি অপরিহার্য উপাদান। দেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী পর্যায়ে নতুন শিল্প স্থাপন এবং বিদ্যমান শিল্পখাতের সম্প্রসারণের জন্য উন্নত ও পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বহুতল শিল্প ভবন, গুদাম বা সংরক্ষণাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে এলিভেটর ব্যবহারের বিকল্প নেই। শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল পরিবহন, প্রস্তুত পণ্য স্থানান্তর এবং শ্রমিকদের চলাচলের জন্য এলিভেটর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি আধুনিক শিল্প অবকাঠামো কার্যকর করতে হলে মানসম্মত এলিভেটর স্থাপন অপরিহার্য।

অতএব, শিল্প অবকাঠামোর এই বাস্তব প্রয়োজনীয়তার আলোকে এলিভেটর খাতকে মূলধনী (Capital) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন