সবজি-আমনে মিলছে না চাহিদামতো সার, দুশ্চিন্তায় কৃষক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Tuesday, 1 September, 2026 । 5:15 pm

ফুলকপি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পর্যাপ্ত সারের জোগান থাকতে হয়। সারের জন্য তাই ডিলারের কাছে বেশ কয়েকদিন ঘুরেছেন কৃষক আশরাফুল।

কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত সার ছাড়াই জমিতে ফুলকপির চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মীরেরবাড়ি গ্রামের কৃষক আশরাফুল জানান, জানান, সপ্তাহখানেক ধরে ডিলারের কাছে ধরণা দিয়েও সার পাননি। এদিকে চারার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। তাই সার পাওয়ার বিষয়টি ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে চারা রোপণ করতে শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশরাফুলের সঙ্গে কথা হয় তার ক্ষেতে। কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত কিছু টিএসপি সার দিতে পারলেও ভালো হতো। পরে যদি পাওয়া যায়, আশা নিয়া আবাদ করছি।’

আশরাফুলের শত শত সবজি ও আমনচাষি সারের জন্য ঘুরেও চাহিদামতো সার জোগাড় করতে পারছেন না।

এদিকে, কৃষিবিভাগ জেলায় সার সংকট নেই দাবি করলেও অনেক এলাকায় মাঠের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলার- কারো কাছেই চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ভূরুঙ্গামারীতে সার লুটের ঘটনার পর সেপ্টেম্বর মাসের সারের বরাদ্দ আগস্টেই তোলার অনুমতি দেওয়া হলেও সংকটের সমাধান হচ্ছে না।

মঙ্গলবার সরেজমিন রাজারহাটের সবজিপ্রধান এলাকা মীরেরবাড়ি গ্রাম ঘুরে সার নিয়ে কৃষকের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এক একর জমিতে কপির চারা লাগানোর আগেই তার টিএসপি, পটাশ ও ড্যাপ সার দরকার।

কিন্তু মেলাতে পারছেন না। খুচরা বিক্রেতা মশিউর রহমানের দোকানে গিয়ে দেখা যায় অনেক কৃষক আমনের চারা রোপণের জন্য ইউরিয়া, কপি ক্ষেতে প্রয়োগের জন্য টিএসপি ও পটাশ সার পাচ্ছেন না।
কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, তিন দিন সারের দোকানে ঘুরছেন, কিন্তু সার পাচ্ছেন না। প্রতিকেজিতে দুই-তিন টাকা বেশি দিয়েও কিনতে রাজি থাকলেও সার জোগাতে পারছেন না সার বিক্রেতা। আর এক একর আমন ক্ষেতে প্রয়োগের জন্য চারদিন ঘুরে মাত্র ১০ কেজি ইউরিয়া সার জোগাতে পেরেছেন রানা মিয়া। সার প্রয়োজন অন্তত ৩০ কেজি।

খুচরা সার বিক্রেতা মশিউর রহমান জানান, এলাকায় ডিলারের কাছে সার মিলছে না। তাই পাশের লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি থেকে বেশি দামে সার এনে কেজিপ্রতি দুই টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন তিনি। তাও ১০ থেকে ১৫ কেজির বেশি কাউকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ছিনাই ইউনিয়নের রাসায়নিক সার ডিলার ইউসুফ আলী বাবুর দোকানে সকালে নানা বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ কৃষি কার্ড, কেউ আইডি কার্ড নিয়ে ছোটাছোটি করছেন। কিন্তু প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাবু জানান, তিনি এ মাসে ৪৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু মাস শুরুর আগেই গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তোলা ১৮ মেট্রিক টন সার বিতরণ করা হয়েছে।

ছিনাই ইউনিয়ন সবজি প্রধান এলাকা হলেও বাড়তি বরাদ্দ না দেওয়ায় কৃষক চাহিদামতো সার পাচ্ছে না। কৃষকরা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ি গ্রামে আগাম কপি চাষ হয়। পুরো গ্রামের এক হাজার পরিবারের মধ্যে ৭০০ পরিবার কপি চাষের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু এবছরের মতো এমন সারের সংকট আগে হয়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬ -২৭ অর্থ বছরে ইউরিয়া সারের অনুমোদিত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। আর আগস্ট মাসে জেলায় চাহিদা অনুযায়ী সব সার পাওয়া গেছে। আগস্টের ২৫ তারিখ থেকেই সেপ্টেম্বর মাসের সার তোলার জন্য ডিলারদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেটেম্বর মাসের চাহিদা আট হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তোলা হয়েছে এক হাজার ৮৩২ মেট্রিক টন।

তবে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় কোনো সারের সংকট নেই। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। ফলে এখন কোথাও কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন