টিটির বদলে ‘সোমা-জেক্ট’, অসুস্থ কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Monday, 13 July, 2026 । 10:44 pm

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫ নম্বর চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর বাজারে টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুলবশত ‘সোমা-জেক্ট’ নামে একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইশরাত জাহান (১৩) নামে এক কিশোরী অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ জুন টিটি ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ইশরাতকে গাজীনগর বাজারের দীপ্ত মেডিকেল হলে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মচারী তপন (৫০) ভুলবশত টিটির পরিবর্তে ‘সোমা-জেক্ট’ ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশরাতের বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে বাড়িতে রয়েছে।

ইশরাতের বাবা সফিউদ্দীন নয়ন বলেন, “আমার মেয়েকে টিটি ইনজেকশন দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি রায়পুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজীর নাম ব্যবহার করে দীপ্ত মেডিকেল হলের মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তাকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়পুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী বলেন, “সফিউদ্দীন নয়নের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা নিয়ে কথা হয়েছে। প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে দীপ্ত মেডিকেল হলের মালিক প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, “ঘটনাটি আমাদের ভুল হয়েছে। একসঙ্গে টিটি ও ‘সোমা-জেক্ট’ ইনজেকশন বের করা হয়েছিল। আমার দোকানের কর্মচারী না বুঝে ভুল ইনজেকশন দিয়ে ফেলেছে। পরে বাজার কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, একটি সামান্য অসতর্কতা একজন রোগীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, “ঘটনাটি এইমাত্র জেনেছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসাসেবায় এমন অবহেলার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন