সীমান্ত দিয়ে বাড়ছে চোরাচালান: ময়মনসিংহে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: Saturday, 4 July, 2026 । 3:27 am

শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ সিরাপ, ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও থামছে না মাদক চোরাচালান। ফলে সরাসরি ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই সহজলভ্য হয়ে উঠছে মাদক, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ সমাজ।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ বিভাগে, যা ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮১২ জন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও মাদক চোরাচালান কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর ও পুরোহিতপাড়া এলাকায় দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। অল্প টাকায় সহজেই মাদক সংগ্রহ করতে পারায় অনেক তরুণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিন মাদক সেবনের ফলে অনেকে মারাত্মক শারীরিক ক্ষতির শিকার হলেও নেশার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেই মাদকাসক্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নগরের পুরোহিতপাড়া, কৃষ্টপুর, বলাশপুর ও কেওয়াটখালী বর্তমানে মাদকের অন্যতম স্পটে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরীতে প্রায় ১৫৫টি মাদক স্পট রয়েছে। এসব এলাকা থেকে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে মাদক সরবরাহ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজিজুল ইসলাম নামে এক কথিত মাদক কারবারি দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে মাসিক মাসোহারা দিয়েই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ছোটখাটো বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু বড় ডিলাররা আগেই খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।’

ময়মনসিংহ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী বলেন, “মাদক এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “দেশে অধিকাংশ মাদক উৎপাদিত হয় না; সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।”

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন