শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী জসিমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Saturday, 6 June, 2026 । 2:10 am

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) অফিস সহায়ক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে জড়িত থাকা এবং আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে নিম্নপদে সরকারি চাকরিতে যোগদান করা জসিম উদ্দিন বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক। একজন অফিস সহায়কের বেতন ও আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনযাত্রার কোনো সামঞ্জস্য নেই বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত থাকার সুযোগে জসিম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি কখনো ব্যক্তিগত সচিব (পিএস), কখনো ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিষয়ে প্রভাব খাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রেও তার অনুমোদন বা সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল দ্রুত পাস করানো এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন জসিম। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া জসিম উদ্দিনের নামে ও বেনামে রাজধানীর খিলগাঁও-রামপুরা এলাকায় একটি বহুতল ভবন, মোহাম্মদপুরের আদাবরে একটি বাড়ি এবং খুলনার রূপসা উপজেলায় আরেকটি বাড়ি থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের উৎস তদন্ত করলে তার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জসিমের স্ত্রীর নামে ‘মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন নির্মাণকাজে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছেন তারা মূলত আমার সহকর্মী এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরোধী। দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রধান প্রকৌশলীর আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করায় তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব অভিযোগ তুলছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারীদের পরিচয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী এ ধরনের কোনো তদন্ত বা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির সত্যতা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, “জসিমের বিরুদ্ধে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। কিছু আলোচনা শুনেছি মাত্র। আর অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে – এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা নেই।”

প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দিনের বৈঠকটি ছিল নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সভা এবং সেখানে কোনো ব্যক্তি বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল না।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত অনিয়ম বা দুর্নীতির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে অতীতেও দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

জাগো সংবাদ/এমএএ

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন