আদমদীঘিতে ইটভাটার ভারী যানবাহনে ধ্বংস হচ্ছে কোটি টাকার রাস্তা, দুর্ভোগে দুই জেলার মানুষ

আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Sunday, 17 May, 2026 । 11:28 am

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম থেকে জয়পুরহাট জেলার তিলকপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য স্থানীয়রা দায়ী করছেন স্থানীয় ইটভাটাকে। অভিযোগ উঠেছে, ইটভাটার ভারী ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা থেকে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন দিন-রাত এই সড়ক ব্যবহার করছে। এতে রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদাময় হয়ে পড়ে এবং শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে ছাতিয়ান গ্রাম, আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং জয়পুরহাট জেলার তিলকপুর এলাকার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যানবাহন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন অংশ এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, ইটভাটার গাড়িগুলো নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত মাটি ও ইট বহন করে দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর খানাখন্দ। অনেক সময় রাস্তার উপর ইটের খোয়া ও কাদা পড়ে থাকায় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা নির্মাণ করলেও কিছু প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকের কারণে সেই রাস্তা এখন ধ্বংসের মুখে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।”

সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং দায়ী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়ক রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দুই জেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নতুবা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/এনামুল

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন