নওগাঁর রাণীনগরে রাস্তা নির্মাণে বাধা, ভোগান্তিতে কয়েকশ পরিবার

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Tuesday, 12 May, 2026 । 4:38 pm

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। এতে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার কয়েকশ পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২ নং কাশিমপুর ইউনিয়নের চককুতুব গ্রামের দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটির সংস্কার ও পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। তবে কাজ চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত জমির দাবি তুলে নির্মাণকাজে বাধা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা রাস্তার মাঝখানে ইট ফেলে শ্রমিকদের কাজ করতে নিষেধ করেন। এতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা খুঁড়ে রাখার কারণে কাদা-মাটিতে চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“এই রাস্তাটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। এখন কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে পুরো গ্রামের মানুষ কষ্টে আছে। বর্ষা শুরু হলে এই পথে চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

তবে যারা কাজে বাধা দিচ্ছেন, তাদের দাবি—রাস্তার নকশা অনুযায়ী কাজ না করে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। সঠিকভাবে সীমানা নির্ধারণ না করেই কাজ চালানোয় তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কালাম চৌধুরী বলেন,

“জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোখলেসুর রহমান বাবু বলেন,

“বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। ইতোমধ্যে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ করছি।”

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন,

“আজ সকালে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমরা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে রাস্তার নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ঠিক রেখে যেন সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

 

জাগো সংবাদ/এমএএ/মুন্না আহম্মেদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন