লক্ষ্মীপুরে মারধর মামলায় নারী কারাগারে, সঙ্গে দুধের শিশু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Monday, 11 May, 2026 । 9:15 pm

লক্ষ্মীপুরে মারধরের একটি মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় তার এক বছরের দুধের শিশুকেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে স্কুল ড্রেস পরিহিত তার আরও দুই সন্তানকে জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক শাহ জামাল মারধরের মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানান, বিকেলে দুধের শিশুসহ ফারহানা আক্তার শিল্পীকে কারাগারে আনা হয়েছে।

এদিকে প্রিজনভ্যানে মায়ের কোলে থাকা শিশুসন্তান এবং জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা অপর দুই শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন কবির স্বপন ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, শিল্পীর এক বছরের শিশু সন্তান সিয়াম মায়ের সঙ্গেই কারাগারে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিল্পীর অন্য দুই সন্তান—পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮)—জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী এবং তাদের পরীক্ষা চলমান রয়েছে।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পী রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেছেন। এতে গুরুতর জখমের অভিযোগ আনা হলেও আদালতে জমা দেওয়া লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল সনদে আঘাতের ধরন ‘সিম্পল ইনজুরি’ বা সাধারণ জখম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এরপরও আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ থাকলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল সনদে আঘাতকে সাধারণ জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের আদেশ ও শিশুদের অসহায় অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক ও প্রকাশক: সোলাইমান ফোন: 01810-546098 ই-মেইল: janatarchokh@gmail.com

প্রিন্ট করুন