খুঁজুন
, ,

অর্থপাচার থেকে নিয়োগ-বাণিজ্য: অডিটর জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:54 pm
অর্থপাচার থেকে নিয়োগ-বাণিজ্য: অডিটর জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ গুরুতর একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি অডিটর জেনারেলের মতো স্পর্শকাতর সাংবিধানিক পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।

​অভিযোগ উঠেছে, ২৬ জুলাই ২০২৩ সালে নিয়োগ পেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ২০২১-২২ সালের একটি পুরোনো অডিট রিপোর্টকে বর্তমান সিএজি নিজের নামে নতুন করে উপস্থাপন করে বিগত সরকারকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান ও সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক স্বৈরাচার সরকারের অর্থপাচার ও রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প থেকে অর্থ পাচারের জবাবদিহি করতে তার সময়ের অডিট রিপোর্ট চাইলে ১ জানুয়ারি ২০২৫ একটি বিশেষ আদেশ জারি করে ৭ টি কমিটি গঠন করে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে একটি মিথ্যা অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আর্থিক অনিয়মসমূহ অডিট রিপোর্ট থেকে সুকৌশলে গোপন করা হয়।

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এসেছে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের বিষয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষ অডিট না করে, তড়িঘড়ি করে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল বিগত সরকারের পক্ষে একটি সুবিধাজনক ও দায়মুক্তির রিপোর্ট তৈরি করা, যা তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে রাশিয়ান কোম্পানি রোসাটমের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের দায়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর ব্রিটিশ সংসদের মন্ত্রিত্ব হারালেও অডিটর জেনারেল তার স্বপদে বহাল রয়েছেন।

​তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, সিএজি হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনি রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাপক তদবির করেছিলেন। পদে বসার পর তিনি অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিককরণ করেন। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়। বিগত সরকারের শীর্ষ মহলের সুনজরে থাকতে তিনি সরকারি অর্থ ব্যয়ে শেখ পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, ম্যুরাল নির্মাণ, টুঙ্গিপাড়া সফর ও প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত চারমাসের অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি যাচাই করে দেখা যায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খুনের দায়ে কোর্টমার্শলে ফাঁসি হওয়া কর্নেল নওয়াজেশের মেয়ে, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ এর জিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর আজীবন সদস্য এর মেয়ে পদোন্নতি পেয়েছে। এছাড়া গতমাসে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুণ্ডুর স্ত্রীকে সপরিবারে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন এই অডিটর জেনারেল। পাশাপশি বঙ্গবন্ধুর উপর ৪টি বই লেখা রাজস্ব অডিটের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পত্র প্রেরণ করলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে তার দায়মুক্তির পথ সুগম করেছেন।

​এছাড়া, তিনি নিজের ভাই, মামাতো ভাই, ভগ্নিপতি ও নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদায়ন ও প্রভাবশালী অবস্থানে বসিয়েছেন। অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিজস্ব আত্মীয় ও অনুগত লোকদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী ‘প্রভাববলয়’ গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের নামে নিয়মিত মোটা অঙ্কের কমিশন ও ঘুষ আদায় করা হতো। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বিদেশ সফরের একচেটিয়া সুযোগ দিয়ে পুরো বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার দীর্ঘ তালিকাও (পৃষ্ঠা ৫–৮) এখন প্রকাশ্যে।

​চলতি অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারের একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের সঙ্গে সিএজি-র সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এমনকি রেলওয়ের একটি বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শিথিল ও ধামাচাপা দিতে তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি গোপন যোগাযোগ বজায় রাখতেন, যা বর্তমানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অর্থপাচারে সহায়তা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং দেশেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

​গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। চাপের মুখে পড়ে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করার মৌখিক আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে পদত্যাগ না করে কৌশলগতভাবে আত্মগোপনে চলে যান।

ঐ দপ্তরে থাকা দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ৮ জুন অডিটর জেনারেলের ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের বিষয় গণমাধ্যমে আসায় সে সফর বাতিল করে গোপনে অফিস আদেশ লুকিয়ে বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে আছেন। এতে করে বিদেশে থাকা আওয়ামীলীগের ঊর্ধ্বতনদের সাথে তার গোপন সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তার দপ্তরে চাউর হয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে মিশন অডিট, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারী প্রশাসন চালানো এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ