খুঁজুন
, ,

ফেনীতে ৫৬২ কোটি টাকার প্রকল্পে ২০০ কোটি লুট!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Saturday, 11 April, 2026, 3:47 pm
ফেনীতে ৫৬২ কোটি টাকার প্রকল্পে ২০০ কোটি লুট!

ফেনীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি বৃহৎ সেচ প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। ৫৬২ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নদী থেকে ফসলি জমিতে পানি সরবরাহের জন্য স্থাপিত ৮৫০টি সেচ পাম্পের মধ্যে ৩৩৩টির কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাকি পাম্পগুলোর বড় অংশ অকার্যকর কিংবা নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে চালু রাখা হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সেচ সুবিধা পাচ্ছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার এক-ষষ্ঠাংশও পূরণ হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পে কখনোই ৮৫০টি সেচ স্কিম বাস্তবে চালু হয়নি; বরং কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের কনসালট্যান্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, প্রকল্প চালু না করেই সমাপ্ত ঘোষণা দিয়ে বৈদেশিক অর্থের অপচয় করা হয়েছে এবং সরকারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে “মুহুরী সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প” নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ৫৩৪ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন এবং ৮৫০টি সেচ পাম্প চালুর পরিকল্পনা ছিল। ফেনীর পাঁচটি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল।

কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ সেচ পাম্প অচল, অনেক ক্ষেত্রে পাইপলাইনের কোনও অস্তিত্বই শনাক্ত করা যায়নি। নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের কারণে সেগুলো দ্রুত ভেঙে গেছে। ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের কোনও সঠিক লে-আউট না থাকায় মাটির নিচে স্থাপন করা পাইপের অবস্থানও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের অবকাঠামোতেও ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পাম্পহাউজ, হেডার ট্যাংক এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট আকারের এয়ারভেন্ট তৈরি করায় পানি উপচে পড়ে এবং সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফিটিংস, ওয়্যারিং এবং স্যাকশন পাইপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সেচ স্কিমও পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। যেখানে প্রতি পাম্পের আওতায় ২০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার কথা, সেখানে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ হেক্টর জমিও সেচের আওতায় আসেনি। সরেজমিন পরিদর্শনে ৫৯১টি সেচ স্কিম বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ মামুন জানান, ৩৩৩টি পাম্পের বরাদ্দ অর্থ থেকে ঠিকাদারদের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অন্তত ২০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এই অর্থ ভবিষ্যতে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও গুরুতর অনিয়ম রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর দরপত্রে অনিয়ম করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে কাজ বরাদ্দ দেওয়া এবং কাজের অগ্রগতির তুলনায় অতিরিক্ত বিল প্রদান করে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।

এমনকি একটি সাবস্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশি একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি দামে কাজ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে ১৬ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এলেও বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ নথিপত্র না থাকার অজুহাতে দায়ীদের রক্ষা করা হয়েছে।

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, অভিযোগের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলেও দালিলিক প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “আমরা অফিশিয়ালি জানি অনিয়ম হয়েছে, কিন্তু কাগজে-কলমে প্রমাণ করা যায়নি। ডকুমেন্ট ছাড়া তো কিছুই করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, প্রকল্প এলাকার ভৌগোলিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও প্রকল্প ব্যর্থতার একটি কারণ। তার মতে, অনেক সেচ পাম্প দূরবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ট্রান্সফরমার চুরি ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা ছিল।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের মতে, এত বড় প্রকল্পে একযোগে এমন অনিয়ম কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির ফল। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে অনিয়মের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দরপত্র থেকে শুরু করে বিল প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশ ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক রাফিউস সাজ্জাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। তদন্তে আমার কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি।”

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় জনগণের কাছে মন্ত্রণালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এটি খাদ্য উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতো, তাহলে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন সম্ভব হতো এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই প্রকল্প এখন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ নিয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের সুফল না পেয়ে কৃষকরা যেমন বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি রাষ্ট্রকেও বহন করতে হচ্ছে অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা।

এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ