খুঁজুন
, ,

ইরানে বিপদেপড়া ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 5 April, 2026, 8:37 am
ইরানে বিপদেপড়া ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রই

ভূপাতিত হওয়া একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করার সময় ইরানের একটি দুর্গম ঘাঁটিতে আটকেপড়া নিজেদের দুটি পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং পুলিশ পৃথকভাবে দাবি করেছে যে তারা ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন সি-১৩০ সহায়তা বিমান ভূপাতিত করেছে। এর মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ৪৮ ঘণ্টার অধ্যায়ে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি হলো।

অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা, যিনি একজন কর্নেল পদমর্যাদার, তাকে রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের পাহাড়ে আত্মরক্ষার জন্য সামান্য একটি পিস্তল নিয়ে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লুকিয়ে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

ইজেকশন বা বিমান থেকে বেরিয়ে আসার সময় পাওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে কুয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইরানে দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান ধ্বংস

নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ঘটনাকে ‘একটি চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কমান্ডো এবং উদ্ধার করা কর্মকর্তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্ধারিত দুটি পরিবহন বিমান ইরানের অভ্যন্তরে একটি দুর্গম ঘাঁটিতে অকেজো হয়ে পড়ে।

স্পর্শকাতর সরঞ্জাম সংবলিত বিমানগুলো ইরানিদের হাতে পড়ার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে কমান্ডোরা সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। এরপর সমস্ত মার্কিন সামরিক সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে আরও তিনটি বিকল্প বিমান সেখানে পাঠানো হয়।

শত্রু ভূখণ্ডে নিজেদের বিমান ধ্বংসের এই ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য অপারেশনাল জটিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানি ভূখণ্ডের গভীরে দীর্ঘস্থায়ী অভিযান পরিচালনার চরম ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধারের সময় মার্কিন কমান্ডোরা ইরানি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় ধেয়ে আসা ইরানি কনভয়গুলোর ওপর মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ও গুলি বর্ষণ করা হয়।

দুইজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ‘ভূপাতিত হওয়া কর্মকর্তার কাছে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিকন এবং এনক্রিপ্টেড ডিভাইস ছিল, কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকার সময় আত্মরক্ষার জন্য তার কাছে ছিল কেবল একটি হ্যান্ডগান।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট করেছে যে, এই মিশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র’ পাঠিয়েছিল এবং সেখানে ‘ইরানি স্থল বাহিনীর সঙ্গে বড় কোনো বন্দুকযুদ্ধ হয়নি’—যা সিবিএস এবং নিউইয়র্ক টাইমসের বর্ণনার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলের কোনো মার্কিন সদস্য হতাহত হননি। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে আইআরজিসি এবং বাসিজ সদস্যদের আহত ও মৃত অবস্থায় দেখা গেছে, যারা মূলত ওই মার্কিন সেনার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল।

ইসফাহানের কাছে সি-১৩০ সাপোর্ট বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি রেভল্যুশনারি গার্ডের বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, ‘ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পেতে নিয়োজিত একটি মার্কিন শত্রু বিমান ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামের যোদ্ধাদের দ্বারা ধ্বংস হয়েছে।’

পৃথকভাবে, ইরানের পুলিশ কমান্ড দাবি করেছে যে, তাদের কমান্ডো ইউনিট দক্ষিণ ইসফাহান এলাকায় ‘তীব্র গুলিবর্ষণের মাধ্যমে’ একটি মার্কিন সি-১৩০ সাপোর্ট বিমান ধ্বংস করেছে।

তাসনিম কর্তৃক উদ্ধৃত স্থানীয় সূত্রগুলো বিমানটিকে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হিসেবে বর্ণনা করেছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত পেন্টাগন বা সেন্টকম কেউই এই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার একাধিক দাবি করেছে, যার মধ্যে কিছু এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ইরানের এমন একটি অঞ্চলে ভূপাতিত হয়েছিল যেখানে ‘ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত’ রয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভূপাতিত ওই কর্মকর্তা হয়তো স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের কাছ থেকে আশ্রয় ও সহায়তা পেয়েছিলেন।

এটি সেই সব এলাকার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে ইরান সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই আমেরিকানকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং তাকে জীবিত ধরতে পারলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

সশস্ত্র উপজাতীয় ব্যক্তি এবং গ্রামবাসীরা তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ওই আমেরিকানের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল।

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ