নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারের পেকুয়াবাসীর বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল। উন্নয়ন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়ার কৃতী সন্তান, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাবি ও প্রত্যাশার পর পেকুয়া পৌরসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় জনমনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবার সম্প্রসারণ নিশ্চিত হবে। একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব নগরী হিসেবে পেকুয়াকে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, পেকুয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন আজ সম্ভব হয়েছে। এই পৌরসভা শুধু একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পেকুয়ার মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। এই অর্জন পেকুয়ার প্রতিটি মানুষের। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ফলে পরিকল্পিত নগরায়ন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে পুরো পেকুয়া সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয় তোরণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয় আলোকসজ্জা। সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে। এ সময় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা শুধু প্রশাসনিক মর্যাদাই নয়, বরং কক্সবাজারের দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আধুনিক নগর সুবিধার বিস্তার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে পেকুয়া আগামী দিনে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পৌর এলাকায় পরিণত হবে।
পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, সরকারের আন্তরিকতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পেকুয়া শিগগিরই একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত পৌর নগরীতে রূপ নেবে।

