খুঁজুন
, ,

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে হুমকি সম্পাদক আশিকের

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Thursday, 21 May, 2026, 5:08 pm
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে হুমকি সম্পাদক আশিকের

নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেফতার করায় মুঠোফোনে পুলিশ এএসআইকে হুমকি দিয়েছে রাসেল আহম্মেদ আশিক নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।

বুধবার (২০মে) থানা পুলিশের এএসআই লতিফকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেন তিনি। এরআগে গত সোমবার সন্ধ্যায় এসকে নাহিদ (২৬) নামে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর নাহিদকে মারপিট করার অভিযোগে পুলিশের ওই এএসআই লতিফকে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেন ছাত্রলীগ নেতা আশিক।

আশিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। আর হুমকির শিকার হওয়া লতিফ রাণীনগর থানার এএসআই হিসেবে কর্মরত আছেন।

হাতে আসা দুই মিনিট ৫২ সেকেন্ডের অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, আশিক পুলিশের এএসআই লতিফকে জিজ্ঞেস করেন মামলা ছাড়া এসকে নাহিদকে কিভাবে গ্রেপ্তার করেছেন এবং এই গ্রেফতার কে সহযোগীতা করেছেন। এছাড়া গ্রেফতারের পর নাহিদকে মেরেছেন কেন এই বিষয়ে জানতে চান ছাত্রলীগ নেতা আশিক? এএসআই অস্বীকার গেলে নাহিদের হাতে ও পেটে আঘাত আছে বলে মনে করিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতা আশিক। এরপর জানতে চায় আপনার চাকরি কতো সালে। এক পর্যায়ে উগ্র মেজাজে জানতে চান আপনারা ফাইজলামি শুরু করেছেন লতিফ ভাই। আমরা কি এলাকায় ফিরবো না? আপনাকে টেনে আবার রাণীনগরে নিয়ে আসা হবে। আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সস্পাদক, জয় বাংলার লোক রাসেল আহম্মেদ আশিক। আপনি গায়ে কেন হাত দিয়েছেন? আপনারা কি উন্মাদ হয়ে গেছেন?

এএসআই লতিফকে উদেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনার এক ঘন্টা সময়, নাহিদকে কে গ্রেফতার করায়ছে এই তথ্য দিবেন, না হলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব এবং আমরা কি করতে পারি সেটা দেখিয়ে দিব। আপনার এএসআই হ্যাডার মধ্যে দিয়ে দিবো। ওসিকে বলে দিতে চাইলে তিনি আরও খারাপ ভাষায় ওই মিয়া বলে গালি দেয়। এবং আপনার বাচ্চা কাচ্চা পরিবার নেই বলে মনে করিয়ে দেয় আশিক। কাজেই আপনার সব তথ্য আমাদের কাছে সংগ্রহ, টেনে এনে তোর হ্যাডা ফাটানো হবে মা*দার*চু*দ। তুই কার গায়ে হাত দিছিস এটা রাতে চিন্তা করবি বলেও হুমকি দেয় এই আশিক।

জবাবে এএসআই লতিফ ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন ছাত্রলীগ নেতা আশিককে। এবং তার সাথে তর্ক করতে চান না জানিয়ে ওসির কাছ থেকে তথ্য নিতে বলেন লতিফ। হুমকি দেওয়ার কারণে জানতে চায় এএসআই লতিফ। এবং বলেন আমিও ওসি স্যারের সাথে কথা বলছি। এছাড়া একসময় আশিকের নেতাগিরিও দেখতে চান এএসআই লতিফ।

জানতে চাইলে হুমকিসহ গালিগালাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এএসআই লতিফ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নাহিদ নামের একজনকে গ্রেফতারের কারণে ওসি স্যারসহ আমাকে হুমকি দিয়ে গালিগালাজ করেছে। কার নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এটা জানার জন্য সে গালিগালাজ করেছে। আমার বউ বাচ্চাকে দেখে নিতে চেয়েছে। আর মারধরের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। আর তার হুমকির বিষয়ে ওসি স্যারকে বলা হয়েছে।

তবে হুমকি ও গালিগালাজের বিষয়টি জানেন না বলে জানালেন থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নাহিদকে গ্রেফতারের বিষয়ে কার হাত আছে এই বিষয়ে শুধু লতিফের কাছে জানতে চেয়েছে। কিন্তু হুমকি বা গালিগালাজ করেছে এটা শুনিনি। তবে আমি লতিফের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি আরও জানান, তাকে কোনো রকম মারধর করা হয়নি। থানার বাহিরে-ভিতরে ও হাজতখানা সবখানেই সিসি ক্যামেরা আছে। আদালতে অভিযুক্ত বা আসামিদের জিজ্ঞেস করা হয় আঘাত বা কোনো টর্চার করা হয়েছে কিনা। তাই এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।

উল্লেখ্য, গ্রেফতার হওয়া এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী আত্রাই থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার বলেন, গত সোমবার আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ছিলনা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে যখন দেখা করতে যাই, তখন নাহিদের হাতে, নাকে ও গলায় রক্ত দেখতে পাই। মারধর না করলে রক্ত কিভাবে আসলো। আমি অন্তসত্বা ও অসুস্থ। অনেক অনুরোধ করেও নাহিদকে ছাড়াতে পারিনি। আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। তখনই খবর পেয়ে আটক করে।

 

জাগো সংবাদ/এমএএ/আরএইচআর

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ