খুঁজুন
, ,

বাকেরগঞ্জে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা কুদ্দুস মিয়া ফের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Tuesday, 5 May, 2026, 6:51 pm
বাকেরগঞ্জে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা কুদ্দুস মিয়া ফের আলোচনায়

দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কবাই ইউনিয়নের বিএনপি’র বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি কুদ্দুস মিয়াকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল কুদ্দুস মিয়ার গৃহকর্মী সাথী (১৮) কে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজখবর নিয়ে নিয়ে জানা যায়, কুদ্দুস মিয়ার প্রথম স্ত্রী ঢাকার মেয়ের বাসায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা বেগম বরিশাল শহরে তার ছেলের বাসায় বসবাস করছেন। কুদ্দুস মিয়া তার অপর এক ছেলে শৈশব ও পুত্রবধূকে নিয়ে পেয়ারপুর বাজারে নিজ বাসায় বসবাস করে আসছেন। গতকাল বাসায় পরিবার না থাকায় গৃহকর্মী সাথীকে কুপ্রস্তাব দিলে সাথী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বিষয়টি নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি শুরু হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই কুদ্দুস মিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তালিকায় চাঁদাবাজি, প্রতারক, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র আইন, চুরি, বিস্ফোরক, জাল টাকার ব্যবসা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ নানা অপরাধে ১৫ মামলার আসামি হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপরাধ কর্মকাণ্ড।

নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার হোতা কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের কাছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দলের হাই কমেন্ট ২০/০৮/২০২৪ কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু কবাই ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ এখনো কুদ্দুস মিয়ার হাতে।

কুদ্দুস মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে সরকারি চরের জমির মাটি যা ভেকু দিয়ে কাটতে গিয়ে কবাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার আসামি হয়ে জেলহাজতেও যায়। অপর ছেলে মেহেদী হাসান শৈশব এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক। থামছে না কোনভাবেই কুদ্দুস পরিবার ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকান্ড। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের বৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হানুয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়ার (৫৫) ছোটবেলা থেকেই কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর এলাকায় বসবাস। সে সুবাদে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ওই এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন অপরাধের সাম্রাজ্য। থানা পুলিশের প্রিভিয়াস কনভিকশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস রেকর্ড (পিসিপিআর) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের মধ্যে প্রায় ১৫টি মামলার আসামি হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। বাকেরগঞ্জ থানা (১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং ৫৫, ৪ মার্চ ২০০৮। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬(২) পেনাল কোড ১৮৬০। (২) এফআইআর নং -৭, ৫ অক্টোবর ২০১২। ধারা ১১(গ),৩০ ২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩। (৩) এফআইআর নং -২৪, জি আর নং-৩৪৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ৪০৬/৪২০ পেনেল কোড ১৮৬০। (৪) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/ ১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৫) এফআইআর নং -২৩, জি আর নং-২৩, ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ধারা ১৫(১)(ক) ১৯৭৪ বিশেষ ক্ষমতা আইন। (৬) এফআইআর নং -৪, জি আর নং-৪, ৪ জানুয়ারি ২০২০। ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৭) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩০৭/৩৭৯/ ৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৮) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৯) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।

(১০) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।

(১১) তেজগাঁও থানা এফআইআর নং -১৪, জি আর নং-২৯৫, ১০ মে ২০২২। ধারা ৩-১৯০৮ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন সহ ১৪৩/১৪৮/৪২৭/৪৩৫/৪৩৬/৫০৬ প্যানেল কোড ১৮৬০। (১২) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০। (১৩) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০। (১৪) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০। তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

কুদ্দুস মিয়াঁর ২য় পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবের পিসিপিআর এ রয়েছে ৯টি মামলা।

(১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।(২) এফআইআর নং -২২, জি আর নং-৩৭২, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ ধারা১৪৩/৪৪৭/৩২৩/ ৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৩) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩০৭/৩৭৯/ ৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৪) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৫) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।

(৬) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।

(৭) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/ ৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০। (৮) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/ ৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।

(৯) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/ ৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।

তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর চন্দ্রবিন্দু কমপ্লেক্সে এবং শিয়ালঘুনি চন্দ্রবিন্দু অ্যাগ্রো ফার্মা নামের প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ঘটায়।

এছাড়াও বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামের এএইচ ব্রিকস নামের ইটভাঁটার দুইবার অফিসে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকাসহ প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটায় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি ওয়ারিশ দিয়ে মামলা করে বাধ্য করতো কম দামে অথবা বিনামূল্যে জমি ফিরিয়ে নিতে ক্রেতার কাছ থেকে। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি ব্যবসায়ী,সরকারি চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলা চলমান রয়েছে। নানা অপরাধের অভিযোগে কুদ্দুস মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার কারাভোগ করেন। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে এলাকাবাসীর কাছে কুদ্দুস মিয়া এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলোর অগ্রগতি থমকে আছে।

কুদ্দুস মিয়ার আওয়ামী ফেসিস্ট আমলে বরিশালের সাদিক আব্দুল্লাহর নিকটতম আস্থাভাজন তার বোন, বোন জামাই ও ভাগিনার দাপটে অনেক বিএনপি নেতাদের মামলাসহ লুটপাট করে নিরীহ মানুষদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, কুদ্দুস মিয়া একাধিক মামলার আসামি। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কোন অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/খান মেহেদী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ