খুঁজুন
, ,

বাকেরগঞ্জে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা কুদ্দুস মিয়া ফের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Tuesday, 5 May, 2026, 6:51 pm
বাকেরগঞ্জে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা কুদ্দুস মিয়া ফের আলোচনায়

দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কবাই ইউনিয়নের বিএনপি’র বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি কুদ্দুস মিয়াকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল কুদ্দুস মিয়ার গৃহকর্মী সাথী (১৮) কে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজখবর নিয়ে নিয়ে জানা যায়, কুদ্দুস মিয়ার প্রথম স্ত্রী ঢাকার মেয়ের বাসায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা বেগম বরিশাল শহরে তার ছেলের বাসায় বসবাস করছেন। কুদ্দুস মিয়া তার অপর এক ছেলে শৈশব ও পুত্রবধূকে নিয়ে পেয়ারপুর বাজারে নিজ বাসায় বসবাস করে আসছেন। গতকাল বাসায় পরিবার না থাকায় গৃহকর্মী সাথীকে কুপ্রস্তাব দিলে সাথী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বিষয়টি নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি শুরু হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই কুদ্দুস মিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তালিকায় চাঁদাবাজি, প্রতারক, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র আইন, চুরি, বিস্ফোরক, জাল টাকার ব্যবসা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ নানা অপরাধে ১৫ মামলার আসামি হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপরাধ কর্মকাণ্ড।

নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার হোতা কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের কাছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দলের হাই কমেন্ট ২০/০৮/২০২৪ কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু কবাই ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ এখনো কুদ্দুস মিয়ার হাতে।

কুদ্দুস মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে সরকারি চরের জমির মাটি যা ভেকু দিয়ে কাটতে গিয়ে কবাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার আসামি হয়ে জেলহাজতেও যায়। অপর ছেলে মেহেদী হাসান শৈশব এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক। থামছে না কোনভাবেই কুদ্দুস পরিবার ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকান্ড। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের বৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হানুয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়ার (৫৫) ছোটবেলা থেকেই কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর এলাকায় বসবাস। সে সুবাদে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ওই এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন অপরাধের সাম্রাজ্য। থানা পুলিশের প্রিভিয়াস কনভিকশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস রেকর্ড (পিসিপিআর) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের মধ্যে প্রায় ১৫টি মামলার আসামি হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। বাকেরগঞ্জ থানা (১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং ৫৫, ৪ মার্চ ২০০৮। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬(২) পেনাল কোড ১৮৬০। (২) এফআইআর নং -৭, ৫ অক্টোবর ২০১২। ধারা ১১(গ),৩০ ২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩। (৩) এফআইআর নং -২৪, জি আর নং-৩৪৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ৪০৬/৪২০ পেনেল কোড ১৮৬০। (৪) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/ ১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৫) এফআইআর নং -২৩, জি আর নং-২৩, ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ধারা ১৫(১)(ক) ১৯৭৪ বিশেষ ক্ষমতা আইন। (৬) এফআইআর নং -৪, জি আর নং-৪, ৪ জানুয়ারি ২০২০। ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৭) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩০৭/৩৭৯/ ৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৮) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৯) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।

(১০) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।

(১১) তেজগাঁও থানা এফআইআর নং -১৪, জি আর নং-২৯৫, ১০ মে ২০২২। ধারা ৩-১৯০৮ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন সহ ১৪৩/১৪৮/৪২৭/৪৩৫/৪৩৬/৫০৬ প্যানেল কোড ১৮৬০। (১২) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০। (১৩) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০। (১৪) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০। তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

কুদ্দুস মিয়াঁর ২য় পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবের পিসিপিআর এ রয়েছে ৯টি মামলা।

(১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।(২) এফআইআর নং -২২, জি আর নং-৩৭২, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ ধারা১৪৩/৪৪৭/৩২৩/ ৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৩) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩০৭/৩৭৯/ ৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।

(৪) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৫) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।

(৬) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।

(৭) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/ ৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০। (৮) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/ ৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।

(৯) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/ ৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।

তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর চন্দ্রবিন্দু কমপ্লেক্সে এবং শিয়ালঘুনি চন্দ্রবিন্দু অ্যাগ্রো ফার্মা নামের প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ঘটায়।

এছাড়াও বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামের এএইচ ব্রিকস নামের ইটভাঁটার দুইবার অফিসে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকাসহ প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটায় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি ওয়ারিশ দিয়ে মামলা করে বাধ্য করতো কম দামে অথবা বিনামূল্যে জমি ফিরিয়ে নিতে ক্রেতার কাছ থেকে। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি ব্যবসায়ী,সরকারি চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলা চলমান রয়েছে। নানা অপরাধের অভিযোগে কুদ্দুস মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার কারাভোগ করেন। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে এলাকাবাসীর কাছে কুদ্দুস মিয়া এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলোর অগ্রগতি থমকে আছে।

কুদ্দুস মিয়ার আওয়ামী ফেসিস্ট আমলে বরিশালের সাদিক আব্দুল্লাহর নিকটতম আস্থাভাজন তার বোন, বোন জামাই ও ভাগিনার দাপটে অনেক বিএনপি নেতাদের মামলাসহ লুটপাট করে নিরীহ মানুষদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, কুদ্দুস মিয়া একাধিক মামলার আসামি। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কোন অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/খান মেহেদী

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ