খুঁজুন
, ,

যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Tuesday, 24 March, 2026, 9:36 am
যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠক বা সংলাপের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে এই সংঘাত বন্ধে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: কোথায় হতে পারে শান্তি আলোচনা বা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠক।

কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত সেই ভেন্যু নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকাবস্থায়ই ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে মাস্কাটকে আর সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করছে না কোনো পক্ষ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান এখন ইরান এবং তার শত্রু রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদ এই কাজে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইরানে হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতি অনুসরণ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রোববার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শরিফ ও পেজেশকিয়ানের এই ফোনালাপটি ঠিক তখনই হলো যখন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনার পর তিনি তার হুমকি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ইরান এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে, তবে তারা স্বীকার করেছে যে কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে।

গত কয়েক দিনে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সম্বলিত বার্তা পাওয়া গেছে। আমাদের দেশের মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে [সেই উদ্যোগগুলোর] যথাযথ উত্তর দেওয়া হয়েছে,’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে এ কথা জানান।

মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বা যুদ্ধ শেষ করার শর্তের বিষয়ে ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এম.বি. গালিবাফও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে আছে তা থেকে বাঁচতে ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রচেষ্টা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেহরান এবং ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে নেপথ্যে আলোচনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) তাদের কথোপকথনের সারসংক্ষেপে পাকিস্তান জানায়, ইরানি প্রেসিডেন্টের কাছে পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, শান্তি স্থাপনে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে রিয়াদে এক বৈঠকে আরব সমকক্ষদের জানিয়েছেন যে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একজন কূটনীতিক বলেছেন যে, পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি নেই এবং এটি এই অঞ্চলের সেই অল্পসংখ্যক মার্কিন মিত্রদের একটি যারা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রেহাই পেয়েছে। বিষয়টি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান শক্ত করতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (যার মধ্যে গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্তর্ভুক্ত)। গত সপ্তাহে ইরানি নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে বলেন যে, পাকিস্তানের জনগণের প্রতি তার বিশেষ অনুভূতি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অন্যান্য পক্ষ
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানের পাওয়ার গ্রিডে হামলার হুমকি স্থগিত করার পোস্টের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে।

তুরস্কও যুদ্ধের আগে থেকেই মধ্যস্থতার চেষ্টায় জড়িত ছিল এবং একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানি কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা বলছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প শিবিরের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের এই আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আইএএনএসকে বলেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা করবে না।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম
যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা যেকোনো মধ্যস্থতার সাফল্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে’ জানিয়েছেন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের বার্তা আদান-প্রদান, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়।

চ্যাথাম হাউস থিংক ট্যাঙ্কের সানাম ভাকিল বলেন, বেশ কিছু দেশ সংঘাত প্রশমনে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ করছে, তবে ‘আমি একে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সংকেত হিসেবে দেখছি না।’

ভাকিল মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণে ট্রাম্প তার হুমকি থেকে পিছিয়ে আসতে পারেন। কারণ, ইরান হুমকি দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি আরো যোগ করেন, উভয় পক্ষই হয়তো সমঝোতা ও চুক্তির রূপরেখা নিয়ে ভাবছে, তবে কারো মধ্যেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমি দেখছি না। ইরানও নতি স্বীকার করবে বলে মনে হয় না, কারণ তারা মনে করছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এটি তাদের টিকে থাকার লড়াই।

সাধারণত ওমান এবং কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে থাকে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, জেনেভায় ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় কোনো গতি আসেনি।

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:15 pm
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গ্যাসসংকটকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।

রিজভী বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বৈশ্বিক কারণে গ্যাসসংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল।’ তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:14 pm
যাদের নতুন পে স্কেল না দেওয়ার অনুরোধ জানাল টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রতিবছর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আগেই এই শর্ত কার্যকর করতে হবে; অন্যথায় নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যারা নিয়মিত সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদেরকে নতুন বেতন-ভাতার সুবিধা না দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংস্থাটি নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা আশা করা কঠিন।

তাই দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুফল নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের প্রতিবছর আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করা এবং তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবছর যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, নতুন বেতন-ভাতা শুধু তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর যারা এই তথ্য প্রকাশ করবেন না, তাদের নতুন পে স্কেলের সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সহজ হবে বলে মনে করে টিআইবি।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বেতন-ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক।’

তিনি মনে করেন, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়া ঢালাওভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে দাবি তার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার সরকারের প্রত্যাশা ইতিবাচক হলেও, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের মতো বাস্তব চিত্র পরবর্তীতে যাতে ভিন্ন না হয়।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই তাদের আয়-সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকাতেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়; তাই তাদের আয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

এদিকে নতুন পে স্কেলের ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি। এতে উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা স্বল্পআয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2026, 3:11 pm
জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৪৩ শতাংশ

তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ভালো প্রবৃদ্ধিতে চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩৯২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৮৯ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের।

আগস্টে তৈরি পোশাকের দুটি প্রধান খাতেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুদ্রিত সামগ্রীতে। এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য আবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজ