খুঁজুন
, ,

যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Tuesday, 24 March, 2026, 9:36 am
যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠক বা সংলাপের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে এই সংঘাত বন্ধে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: কোথায় হতে পারে শান্তি আলোচনা বা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠক।

কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত সেই ভেন্যু নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকাবস্থায়ই ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে মাস্কাটকে আর সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করছে না কোনো পক্ষ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান এখন ইরান এবং তার শত্রু রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদ এই কাজে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইরানে হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতি অনুসরণ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রোববার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শরিফ ও পেজেশকিয়ানের এই ফোনালাপটি ঠিক তখনই হলো যখন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনার পর তিনি তার হুমকি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ইরান এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে, তবে তারা স্বীকার করেছে যে কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে।

গত কয়েক দিনে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সম্বলিত বার্তা পাওয়া গেছে। আমাদের দেশের মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে [সেই উদ্যোগগুলোর] যথাযথ উত্তর দেওয়া হয়েছে,’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে এ কথা জানান।

মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বা যুদ্ধ শেষ করার শর্তের বিষয়ে ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এম.বি. গালিবাফও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে আছে তা থেকে বাঁচতে ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রচেষ্টা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেহরান এবং ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে নেপথ্যে আলোচনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) তাদের কথোপকথনের সারসংক্ষেপে পাকিস্তান জানায়, ইরানি প্রেসিডেন্টের কাছে পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, শান্তি স্থাপনে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে রিয়াদে এক বৈঠকে আরব সমকক্ষদের জানিয়েছেন যে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একজন কূটনীতিক বলেছেন যে, পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি নেই এবং এটি এই অঞ্চলের সেই অল্পসংখ্যক মার্কিন মিত্রদের একটি যারা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রেহাই পেয়েছে। বিষয়টি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান শক্ত করতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (যার মধ্যে গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্তর্ভুক্ত)। গত সপ্তাহে ইরানি নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে বলেন যে, পাকিস্তানের জনগণের প্রতি তার বিশেষ অনুভূতি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অন্যান্য পক্ষ
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানের পাওয়ার গ্রিডে হামলার হুমকি স্থগিত করার পোস্টের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে।

তুরস্কও যুদ্ধের আগে থেকেই মধ্যস্থতার চেষ্টায় জড়িত ছিল এবং একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানি কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা বলছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প শিবিরের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের এই আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আইএএনএসকে বলেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা করবে না।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম
যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা যেকোনো মধ্যস্থতার সাফল্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে’ জানিয়েছেন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের বার্তা আদান-প্রদান, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়।

চ্যাথাম হাউস থিংক ট্যাঙ্কের সানাম ভাকিল বলেন, বেশ কিছু দেশ সংঘাত প্রশমনে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ করছে, তবে ‘আমি একে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সংকেত হিসেবে দেখছি না।’

ভাকিল মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণে ট্রাম্প তার হুমকি থেকে পিছিয়ে আসতে পারেন। কারণ, ইরান হুমকি দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি আরো যোগ করেন, উভয় পক্ষই হয়তো সমঝোতা ও চুক্তির রূপরেখা নিয়ে ভাবছে, তবে কারো মধ্যেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমি দেখছি না। ইরানও নতি স্বীকার করবে বলে মনে হয় না, কারণ তারা মনে করছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এটি তাদের টিকে থাকার লড়াই।

সাধারণত ওমান এবং কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে থাকে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, জেনেভায় ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় কোনো গতি আসেনি।

হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:41 pm
হামলার দিনক্ষণ ঠিক করতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই সময় ট্রাম্প মূলত হামলা চালানোর দিনক্ষণ এবং ইরানের ঠিক কোথায় হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছে বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনালাপ হয়।

ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথা উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে পারমাণবিক উপাদান মজুত রাখা হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের আলোচকেরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগের দিন তেহরানে ইরান ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এসব আলোচনা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইরান সেপ্টেম্বর থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত একটি নৌপথ অনুমোদনের দাবি রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেজায়ি। তার দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের বক্তব্যের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

এর আগে জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল ইরান। তবে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:40 pm
বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন।

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: Sunday, 1 November, 2026, 4:07 pm
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে আসছি। এসব দাবি না মানলে তা ১ দফায় পরিণত হবে। জাতির সঙ্গে এই দ্বিচারিতা এবং বেঈমানীর জন্য তাদেরকে চরমমূল্য দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকাল ৫টায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর উপস্থিতি হয়। এসময় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো কুষ্টিয়া শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, আরিফুল ইসলাম আদিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান,খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মুফতি আমির হামযা এমপি প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন। যে সংবিধান শাসকদের ফ্যাসিস্ট বানায় তার পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্র কাঠামো দাড় করানো যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হবে না কতৃত্ববাদি হবে না।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা একটা ভোট মানলেন আরেকটা মানলেন না। রাষ্ট্রপতির একই আদেশে ২টি ভোট হলো একটি বৈধ হলে আরেকটিও বৈধ। আর অবৈধ হলে ২টিই অবৈধ। সুতরাং গনভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ।

তিনি বলেন, জনগন যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। আর আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরব।

জামায়াত আমির বলেন, ৭ দফা দাবি না মানলে এক দফা দাবিতে আগামীতে আপনাদেরকে ঢাকায় ডাকা হতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব অপেক্ষা করছে। তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় ডা.শফিকুর রহমান জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, গণভোটের কাঙ্খিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীত, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেন প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লংমার্চ জনসভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ব্রেকিং নিউজ